ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর – ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকার সাবেক মেয়র শেখ তাপসের আলোচিত সেই টেলিফোন আলাপে হাসিনা তাপসকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থাপনায় আগুনের নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন! এর আগে এই টেলিফোন আলাপেই শেখ হাসিনা লিথাল উইপন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রকাশ পায়।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও তাপসের কথোপকথনের সেই অডিও শোনানো হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানো হয়।
বিসিবির দারুণ উপহার: মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট দেখা যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আজ জবানবন্দি দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। জবানবন্দিতে তিনি জানান, শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে।
আজ ট্রাইব্যুনালে শোনানো শেখ হাসিনা ও তাপসের টেলিফোন আলাপের একটি অংশে শোনা যায়, একপর্যায়ে তাপস বলেন, জ্বি আপনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ইয়ে করেন। তখন শেখ হাসিনা বলেন, সব জায়গায় আগুন, বিআরটি বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে এখন তো ইন্টারনেট বন্ধ, সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কীভাবে! তাপস বলেন, জ্বি, এটা ভালো হইছে, জ্বি। শেখ হাসিনা বলেন, না পোড়াইয়া দিছে, মেশিনপত্র সব পুড়ে গেছে। আমি বলছি যা যা পোড়াতে, ও আমাদের সেতু ভবন পোড়াইছে। তাপস বলেন, জি, ওরা রাতে মনে হয় আরো ব্যাপক আক্রমন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাঁ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেটা পোড়াইছে।
পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ফোনালাপে শেখ হাসিনা নিজেই আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন- ‘আমি বললাম একটা জিনিস পোড়াতে, (যা যা পোড়াতে..) ওরা পুড়িয়ে দিলো সেতু ভবন।’ তার মানে আগুন দেওয়ার নির্দেশ উনি দিয়েছেন। কিন্তু উনার কাঙ্ক্ষিত জিনিস না পুড়িয়ে অন্য স্থাপনা পোড়ানো হয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন