ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর – বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর জবানবন্দি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া এ জবানবন্দির অংশ হিসেবে তিনি ১৭টি ভিডিও উপস্থাপন করেন এবং সেগুলো দেখানো হয়।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার পর থেকে ট্রাইব্যুনালে ৫৪তম সাক্ষী আলমগীর জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বিরতিতে যান। পরে আবার জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়।
দারোয়ানী স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে অবরোধ, পাঁচ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
আলমগীর শুরুতে ট্রাইব্যুনালে নিজের পরিচয় দেন। তারপরই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জবানবন্দির সময় কিছু ভিডিও দেখানোর প্রয়োজন হবে। সেসব ভিডিও একসঙ্গে শুরুতেই দেখাতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল সম্মতি দেয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদ হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার ১৭টি ভিডিও দেখানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জবানবন্দির সময় ট্রাইব্যুনালের সম্মতি নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার ১৭টি ভিডিও দেখানো হয়। এ বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক আলমগীর। তিনি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক আলমগীর। সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা জোহা।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। ১০ জুলাই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে রাজসাক্ষী হিসেবে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন