ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর – শেখ হাসিনা হত্যার পর লাশ গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দেওয়া সাক্ষে তিনি এ বর্ণনা দেন। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৪৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
বিসিবির দারুণ উপহার: মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট দেখা যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
জবানবন্দিতে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় চালানো শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। ওই প্রতিবেদনের মতে এ গণহত্যা চালানোর জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য প্রতি রাতে নিজ বাসায় কোর কমিটির সভা করতেন কামাল। বৈঠকে পুলিশ-র্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিতেন। সেখানেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছাত্রদের ওপরে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগের উপায় নিয়ে আলোচনা করতেন তারা।
সেসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাতে তারা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর যেন মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এমনকি আন্দোলনকারীদের হত্যা করে লাশ গুমের নির্দেশ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের ওপর কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় পড়ে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাতে মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে প্রধানত জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু ১৫ বছর ধরে চলা ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার অবর্ণনীয় জুলুম নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস রিপোর্ট প্রতিবেদনেও শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতা ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।
এর আগে, ১৫তম দিনের মতো ১৫ সেপ্টেম্বর দিনভর সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান। তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য শেষে আজ জেরা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ড করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন