তেহরান, ১৫ ফেব্রুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় তবে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি এক সাক্ষাৎকারে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
রোববার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখানো হলে চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে জেনেভায় আগামী সপ্তাহে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি তবে তাখত-রাভাঞ্চির মতে মঙ্গলবার এই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা বা ডাইলিউট করতে রাজি আছে বলে জানান তাখত-রাভাঞ্চি। এর বিনিময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান যা বর্তমানে ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের কাছে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিলেও ইরান এখন পর্যন্ত তা গ্রহণ করেনি।
এদিকে ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আলোচনায় ইরানের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে এই আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএন/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬