হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ঈদগাঁওতে ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষেতের সবজি গরুকে খাওয়াচ্ছে দিশেহারা চাষীরা

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও::

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও::

সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

ফলনকৃত‎ সবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ার ক্ষোভে ক্ষেতের ফসল গরুকে খাওয়াচ্ছেন হতভাগা চাষীরা।

এমন চাঞ্চল্যকর দৃশ্য চোখে পড়েছে রবিবার (২৬ অক্টোবর) কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা জাফর আলমের বাড়িতে।
‎
‎চলতি সবজি মৌসুমে ক্ষেত জুড়ে চোখ ধাঁধানো সবজি ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না প্রান্তিক চাষীরা। সার, কীটনাশক, সেচ ও মজুর খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির খাজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে । ফলে দেখে দেখে লোকসান গুনছেন উক্ত এলাকার প্রায় শতাধিক চাষি।
‎
উপজেলার ইসলামাবাদের ‎মধ্যম গজালিয়া, পূর্ব গজালিয়া, ঈদগাঁওয়ের ভোমরিয়াঘোনাসহ আশপাশের প্রায় ২০০ একর জমিতে শতাধিক কৃষক নানা রকমের মৌসুমি সবজি চাষ করছেন। ক্ষেত জুড়ে বাম্পার ফলন হলেও পাইকারি বাজারে দরপতনের কারণে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষীদের পরিবারের আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা।
‎
‎ভুক্তভোগী চাষী নুরুল ইসলাম, নুরুল আমিন, পেঠান মিয়াসহ অনেক কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন,
‎“জমির খাজনা দিয়ে চাষ করেছি, ঋণে সার ও কীটনাশক কিনে ক্ষেতে সবজির আশানুরূপ বাম্পার ফলন হলেও পাইকারি বাজারে ন্যায্য মূল্য নেই। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হবে।
‎
‎কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে কৃষকরা মাঠে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। অথচ বাজারে খুচরা সবজির দাম আকাশছোঁয়া। এতে হতাশ অনেক কৃষকই এ সবজি ফলন পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
‎
‎তাদের দাবি, সরকার যেন কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়। বিনামূল্যে বা ভর্তুকিমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহের পাশাপাশি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যবস্থা নিলে কৃষকদের ঘাম ঝরানো সোনালী সবজির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে বলৈ তাদের আশা।
‎
‎ভোক্তভোগী কৃষকরা বলেন, আমরা পরিশ্রম করে ফসল ফলাই, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে সব হারাচ্ছি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামীতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ঈদগাঁও উপজেলা) মোঃ: রাসেল রানার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি যেহেতু উক্ত উপজেলায় যোগদান করেছেন বেশি দিন হয়নি, সেহেতু সব এলাকা এখনো তার অপরিচিত। বাজারে সবজির দাম চড়া থাকার পরও প্রান্তিক চাষীরা মাঠে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে উক্ত মূল্যবান সবজি গরু মহিষকে খাওয়ানোর ঘটনা খুবই দু:খজনক। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় একটি সেন্টার স্থাপন করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন জানান।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

ঈদগাঁওতে ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষেতের সবজি গরুকে খাওয়াচ্ছে দিশেহারা চাষীরা

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ঈদগাঁওতে ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষেতের সবজি গরুকে খাওয়াচ্ছে দিশেহারা চাষীরা

প্রতিবেদক: আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও:: | প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
Print Image
ফলনকৃত‎ সবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ার ক্ষোভে ক্ষেতের ফসল গরুকে খাওয়াচ্ছেন হতভাগা চাষীরা। এমন চাঞ্চল্যকর দৃশ্য চোখে পড়েছে রবিবার (২৬ অক্টোবর) কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা জাফর আলমের বাড়িতে। ‎ ‎চলতি সবজি মৌসুমে ক্ষেত জুড়ে চোখ ধাঁধানো সবজি ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না প্রান্তিক চাষীরা। সার, কীটনাশক, সেচ ও মজুর খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির খাজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে । ফলে দেখে দেখে লোকসান গুনছেন উক্ত এলাকার প্রায় শতাধিক চাষি। ‎ উপজেলার ইসলামাবাদের ‎মধ্যম গজালিয়া, পূর্ব গজালিয়া, ঈদগাঁওয়ের ভোমরিয়াঘোনাসহ আশপাশের প্রায় ২০০ একর জমিতে শতাধিক কৃষক নানা রকমের মৌসুমি সবজি চাষ করছেন। ক্ষেত জুড়ে বাম্পার ফলন হলেও পাইকারি বাজারে দরপতনের কারণে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষীদের পরিবারের আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা। ‎ ‎ভুক্তভোগী চাষী নুরুল ইসলাম, নুরুল আমিন, পেঠান মিয়াসহ অনেক কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন, ‎“জমির খাজনা দিয়ে চাষ করেছি, ঋণে সার ও কীটনাশক কিনে ক্ষেতে সবজির আশানুরূপ বাম্পার ফলন হলেও পাইকারি বাজারে ন্যায্য মূল্য নেই। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হবে। ‎ ‎কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে কৃষকরা মাঠে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। অথচ বাজারে খুচরা সবজির দাম আকাশছোঁয়া। এতে হতাশ অনেক কৃষকই এ সবজি ফলন পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। ‎ ‎তাদের দাবি, সরকার যেন কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়। বিনামূল্যে বা ভর্তুকিমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহের পাশাপাশি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যবস্থা নিলে কৃষকদের ঘাম ঝরানো সোনালী সবজির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে বলৈ তাদের আশা। ‎ ‎ভোক্তভোগী কৃষকরা বলেন, আমরা পরিশ্রম করে ফসল ফলাই, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে সব হারাচ্ছি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামীতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ঈদগাঁও উপজেলা) মোঃ: রাসেল রানার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি যেহেতু উক্ত উপজেলায় যোগদান করেছেন বেশি দিন হয়নি, সেহেতু সব এলাকা এখনো তার অপরিচিত। বাজারে সবজির দাম চড়া থাকার পরও প্রান্তিক চাষীরা মাঠে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে উক্ত মূল্যবান সবজি গরু মহিষকে খাওয়ানোর ঘটনা খুবই দু:খজনক। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় একটি সেন্টার স্থাপন করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন জানান।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×