হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: সোর্স পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০২ অপরাহ্ন

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি।
দিনমজুর ও সামান্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পরিচয় আড়ালে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের করইবনিয়া গ্রামের রশিদ আহমেদের পুত্র ইউনুসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, তথাকথিত সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার নিরাপদ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল সে। কয়েক বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠা ইউনুসের এই রহস্যজনক উত্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বছর কয়েক আগেও ইউনুস মানুষের বাসাবাড়িতে দৈনিক বেতনের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি’র কাজ করত। সংসারের ন্যূনতম খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হতো তাকে। অথচ হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় আসে নাটকীয় পরিবর্তন। পাকা বাড়ি, একাধিক জমি, কয়েকটি ড্রাম ট্রাক, দামি মোটরসাইকেল ও বিলাসী চলাফেরা—সবকিছুই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইউনুস নিজেকে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযানের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিত। এতে করে এলাকায় সে এক ধরনের অঘোষিত প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করত।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ইউনুস নিজে খুব কমই ইয়াবা বহন করত। বরং একটি শক্তিশালী সহযোগী চক্রের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করায় এতদিন সে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল। তার মাদক চোরাচালান কাজে সহযোগিতা করে ব্যবসা উর্বর করে যাচ্ছে একই এলাকার আবছার ও জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: ভারতীয় হাইকমিশনার

ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগে ইউনুস একটি টমটম থামিয়ে প্রায় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনের কাছে মাত্র ৮ হাজার পিস ইয়াবা জমা দিয়ে বাকি ২২ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

১২ই ডিসেম্বর বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৫০ হাজার পিস উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গুলোর মালিক ইউনুস বলে দাবি করছে অনেকেই।

এছাড়া এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ইউনুসের এসব অপকর্মের বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ইউনুসের অপকর্ম ও এলাকাবাসীকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরাসরি দেখা করবে বলে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
######

shahid

shahid

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: সোর্স পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: সোর্স পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০২ অপরাহ্ন
Print Image
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি। দিনমজুর ও সামান্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পরিচয় আড়ালে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের করইবনিয়া গ্রামের রশিদ আহমেদের পুত্র ইউনুসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, তথাকথিত সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার নিরাপদ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল সে। কয়েক বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠা ইউনুসের এই রহস্যজনক উত্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বছর কয়েক আগেও ইউনুস মানুষের বাসাবাড়িতে দৈনিক বেতনের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি'র কাজ করত। সংসারের ন্যূনতম খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হতো তাকে। অথচ হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় আসে নাটকীয় পরিবর্তন। পাকা বাড়ি, একাধিক জমি, কয়েকটি ড্রাম ট্রাক, দামি মোটরসাইকেল ও বিলাসী চলাফেরা—সবকিছুই প্রশ্নের জন্ম দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইউনুস নিজেকে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযানের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিত। এতে করে এলাকায় সে এক ধরনের অঘোষিত প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করত। সূত্রগুলো আরও জানায়, ইউনুস নিজে খুব কমই ইয়াবা বহন করত। বরং একটি শক্তিশালী সহযোগী চক্রের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করায় এতদিন সে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল। তার মাদক চোরাচালান কাজে সহযোগিতা করে ব্যবসা উর্বর করে যাচ্ছে একই এলাকার আবছার ও জাহাঙ্গীর। ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগে ইউনুস একটি টমটম থামিয়ে প্রায় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনের কাছে মাত্র ৮ হাজার পিস ইয়াবা জমা দিয়ে বাকি ২২ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ১২ই ডিসেম্বর বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৫০ হাজার পিস উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গুলোর মালিক ইউনুস বলে দাবি করছে অনেকেই। এছাড়া এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ইউনুসের এসব অপকর্মের বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ইউনুসের অপকর্ম ও এলাকাবাসীকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরাসরি দেখা করবে বলে ফোন কেটে দেন। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ######

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×