হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

নদীতে ভাসে মান্তাদের জীবন: কাগজে ভোটার হলেও বাস্তবে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন


বরিশাল, ৭ ফেব্রুয়ারি – আড়িয়াল খাঁ নদের বুকে ভাটার টানে ভেসে থাকা নৌকাগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক একটি ভাসমান পাড়া। বরিশালের মুলাদির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদে মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষেরা নৌকায় গা ঘেঁষে বসবাস করেন।

দূর থেকে দৃশ্যটি শান্ত মনে হলেও কাছে গেলে শোনা যায় শিশুদের কান্না আর হাঁকডাক যা তাদের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে। কাঠের এই নৌকাগুলোই মূলত মান্তা সম্প্রদায়ের ঘর যেখানে তাদের জন্ম এবং মৃত্যু ঘটে। শিশুদের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোমরে রশি বেঁধে রাখার কথা জানান এক মান্তা মা। সারাদিন নৌকায় বন্দি জীবনে তাদের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই এবং রাষ্ট্র বা সমাজের কাছ থেকেও তারা কোনো সহযোগিতা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘর ও জমি দেওয়ার আশ্বাস মিললেও ভোট শেষে তাদের খবর কেউ রাখে না।

আরও পড়ুন

অপকর্ম দমনের বদলে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: ডিআইজির বাসায় অভিযান ঘিরে শফিকুর রহমানের তোপ

মান্তাদের অভিযোগ ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও তারা অদৃশ্যই থেকে যান এবং স্থায়ী ঠিকানার অভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। বরিশাল সদরের কীর্তনখোলা নদীতীরে বসবাসরত তানজুয়া জানান যে মাটির ওপর মাথা গোঁজার মতো ঘর না থাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা নৌকাতেই আটকে আছেন। ইলিয়াস মান্তা নামের একজন বাসিন্দা জানান যে ঘুমের মধ্যে তার তিন বছর বয়সী শিশু পানিতে পড়ে মারা যায় এবং তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়। চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলী জীবন জানান বরিশাল সদর উপজেলায় তিন শতাধিক মান্তা পরিবারের বারোশো মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৫০ জন ভোটার হয়েছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ ও বাবুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক মান্তা পরিবারের একই অবস্থা বিরাজ করছে। সমাজসেবা দপ্তরের তথ্যমতে প্রথমবারের মতো মান্তা সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় এসেছে তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন ভোটাধিকার তাদের জীবনের চক্র ভাঙার সুযোগ দিতে পারত কিন্তু নাগরিক স্বীকৃতির জায়গায় তারা এখনো পৌঁছাতে পারেননি। ২০০৮ সালে ভোটাধিকার পেলেও মান্তা সম্প্রদায় এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং শীত বা অসুখে নদীর পানিই তাদের একমাত্র ভরসা।

এ এম/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

জাতীয়
Card Image

নদীতে ভাসে মান্তাদের জীবন: কাগজে ভোটার হলেও বাস্তবে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

নদীতে ভাসে মান্তাদের জীবন: কাগজে ভোটার হলেও বাস্তবে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] বরিশাল, ৭ ফেব্রুয়ারি – আড়িয়াল খাঁ নদের বুকে ভাটার টানে ভেসে থাকা নৌকাগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক একটি ভাসমান পাড়া। বরিশালের মুলাদির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদে মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষেরা নৌকায় গা ঘেঁষে বসবাস করেন।দূর থেকে দৃশ্যটি শান্ত মনে হলেও কাছে গেলে শোনা যায় শিশুদের কান্না আর হাঁকডাক যা তাদের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে। কাঠের এই নৌকাগুলোই মূলত মান্তা সম্প্রদায়ের ঘর যেখানে তাদের জন্ম এবং মৃত্যু ঘটে। শিশুদের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোমরে রশি বেঁধে রাখার কথা জানান এক মান্তা মা। সারাদিন নৌকায় বন্দি জীবনে তাদের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই এবং রাষ্ট্র বা সমাজের কাছ থেকেও তারা কোনো সহযোগিতা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘর ও জমি দেওয়ার আশ্বাস মিললেও ভোট শেষে তাদের খবর কেউ রাখে না।মান্তাদের অভিযোগ ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও তারা অদৃশ্যই থেকে যান এবং স্থায়ী ঠিকানার অভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। বরিশাল সদরের কীর্তনখোলা নদীতীরে বসবাসরত তানজুয়া জানান যে মাটির ওপর মাথা গোঁজার মতো ঘর না থাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা নৌকাতেই আটকে আছেন। ইলিয়াস মান্তা নামের একজন বাসিন্দা জানান যে ঘুমের মধ্যে তার তিন বছর বয়সী শিশু পানিতে পড়ে মারা যায় এবং তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়। চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলী জীবন জানান বরিশাল সদর উপজেলায় তিন শতাধিক মান্তা পরিবারের বারোশো মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৫০ জন ভোটার হয়েছেন।মেহেন্দিগঞ্জ ও বাবুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক মান্তা পরিবারের একই অবস্থা বিরাজ করছে। সমাজসেবা দপ্তরের তথ্যমতে প্রথমবারের মতো মান্তা সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় এসেছে তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন ভোটাধিকার তাদের জীবনের চক্র ভাঙার সুযোগ দিতে পারত কিন্তু নাগরিক স্বীকৃতির জায়গায় তারা এখনো পৌঁছাতে পারেননি। ২০০৮ সালে ভোটাধিকার পেলেও মান্তা সম্প্রদায় এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং শীত বা অসুখে নদীর পানিই তাদের একমাত্র ভরসা।এ এম/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×