পাবনা, ৮ জুন – পাবনা জেলা শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রক্তক্ষয়ী এই জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো শহর জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে একজন নিষিদ্ধ চরমপন্থি দল ‘নকশাল’-এর সক্রিয় সদস্য এবং অপরজন এক উদীয়মান কলেজছাত্র বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ও সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে শহরের দুটি ব্যস্ততম এলাকায় এই দুই খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সন্ধ্যার হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক চরমপন্থিকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিকেলের ঘটনায় এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে খুনের পর পুকুরে লুকিয়ে থাকা ঘাতককে নাটকীয়ভাবে আটক করেছে পুলিশ।
সালাহউদ্দিন আহমদ: প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে সরকার
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাদ্রাসার গেটে ছেলেকে নামানোর মুহূর্তে চরমপন্থিকে গুলি!
সন্ধ্যার ঘটনাটি ঘটেছে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে। নিহত আলী হোসেন (৫৩) সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ চরমপন্থি দল নকশালের একজন সদস্য ছিলেন।
এর আগে বিকেলের দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার পাবনা পেট্রোলিয়াম পাম্পের পেছনে ঘটে প্রথম হত্যাকাণ্ডটি। নিহত মনিরুল ইসলাম নামের ওই কলেজছাত্র সাঁথিয়া থানার শিবরামপুর পশ্চিমপাড়ার মুন্নাফ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাস টার্মিনাল এলাকায় কলেজছাত্র মনিরুল ও রাকিব নামের এক যুবকের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ঝামেলা বাধে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিব তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মনিরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। মনিরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে ঘাতক রাকিব পাশের একটি কচুরিপানা আচ্ছাদিত পুকুরের ভেতর ঝাপ দিয়ে লুকিয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পুকুর ঘেরাও করে কচুরিপানার ভেতর থেকে রাকিবকে হাতেনাতে আটক করে।
অন্যদিকে গুরুতর আহত মনিরুলকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। আটক হওয়া ঘাতক রাকিব একই এলাকার আলম হুজুরের ছেলে।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘নিহত আলী হোসেন নকশালদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে কলেজছাত্র মনিরুল হত্যার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উভয় ঘটনা নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িত বাকিদের ধরতেও অভিযান চলছে, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।’’
এনএন/ ৮ জুন ২০২৬



মন্তব্য করুন