
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীতে অবস্থিত ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ’ নামক আবাসিক প্রকল্পে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ৪-৫টি পিকআপে করে আসা প্রায় ৬০-৭০ জনের এক সশস্ত্র দল এ হামলা চালায়। প্রজেক্টের ভেতরে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটিও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
দরজা ভাঙা, ছেঁড়া সিসিটিভি তার, গুলির খোসা ও মেঝেতে ছড়ানো কাচের টুকরো নিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে।
কী কী ধ্বংস ও লুটপাট হয়েছে?
তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং সমূলে উৎখাত করা হবে: এফডিসিতে চিফ হুইপের বড় ঘোষণা
চিকিৎসক দম্পতির ওপর হামলা: প্রজেক্টের ১০তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাসকারী এক চিকিৎসক দম্পতিকে মারধর করে মালামাল লুট করা হয়। তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও: স্টুডিওতে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা, ৩টি লেন্স, ৪টি লাইট, সফটবক্সসহ কনটেন্ট তৈরির প্রায় সব সরঞ্জাম লুট ও নষ্ট করা হয়েছে। হামলা চলার সময় ২ জন কর্মী ওয়াশরুমে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান।
শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার: প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ৫০ জন নির্মাণ শ্রমিকের জমানো নগদ টাকা এবং ১৬টি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরসহ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
ঘটনার নেপথ্যে মূল কারণ কী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হামলার নেপথ্যে মূলত কোটি টাকার চাঁদা দাবি এবং জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কাজ করছে:
প্রকল্পের মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বক্তব্য: এটি নিছক কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং জমি দখল ও চাঁদা আদায়ের জন্য পরিকল্পিত আক্রমণ। স্থানীয় রাজনৈতিক ক্যাডার ও একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত এক মাস ধরে ১ কোটি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে আসছিল। তা ছাড়া, সাবেক এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিক্রি করা ১০ কাঠা জমি ও সংলগ্ন ভরাটকৃত আরেকটি জায়গার মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা ঘটানো হয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: স্টুডিওর প্রতিনিধি ইলা জানান, সালমান মুক্তাদির বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাথে কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা চাঁদার বিষয় ছিল না। বিশাল এই প্রজেক্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় তাঁরা মূলত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য: ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম এবং ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে জমি দখল-বেদখল সংক্রান্ত বিবাদকেই হামলার মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত এলাকাটি পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ইতোমধ্যে ৩ জনকে আটক করেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে কখন হামলা হয়?
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলা শুরু হয়।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর নাম কী?
স্টুডিওটির নাম ‘ব্রাউনফিশ’। এটি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের একটি ফ্লোরে পরিচালিত হচ্ছিল।
হামলার কারণ কী?
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, জমি দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধ হামলার সম্ভাব্য কারণ। প্রকল্প মালিকপক্ষ আবার চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
ঘটনায় কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে?
আদালতে তিনজন—মামুন, আসলাম ও মুন্নাকে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশ চারজন গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে।
স্টুডিওর কত টাকার ক্ষতি হয়েছে?
মামলায় স্টুডিওর ক্ষতি আনুমানিক ৯৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
গ্রেপ্তার তিনজনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বুধবার নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে মধ্যরাতে তাণ্ডব: নেপথ্যে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের জট সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও।ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – রা। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন