বাগেরহাট, ২৪ অক্টোবর – দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা এখন এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম খুলনা সফর, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
বাণিজ্যের সময় ও খরচ বাঁচাতে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক হাব বা ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ (First Calling Port) হিসেবে গড়ে তোলার সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির দারুণ উপহার: মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট দেখা যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
চীনের ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ড্রেজিং মেগা-প্রজেক্ট:
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের সিংহভাগ ব্যবহার করা হবে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো, স্মার্ট ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং পশুর চ্যানেলে ব্যাপক ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে।
চ্যানেলে নাব্যতা বাড়লে অধিক গভীরতার (ড্রাফট) বড় বড় মাদার ভেসেল বা আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে ভিড়তে পারবে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকে মোংলামুখী করবে।
মোংলা কেন্দ্রিক বহুমুখী যোগাযোগ ও উন্নয়ন ফ্রেমওয়ার্ক
- যোগাযোগ অবকাঠামো: খুলনা-মোংলা সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ ও সংযোগ সড়ক
- রেল ও আকাশপথ: ওয়াগন-কনটেইনার ট্রেন চালু ও খান জাহান আলী বিমানবন্দর
- নতুন অর্থনৈতিক জোন: প্রস্তাবিত ‘বেজা’ (BEZA) ইকোনমিক জোন ও LNG টার্মিনাল
- রপ্তানি পণ্যের সুবিধা: তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি, পাট ও চামড়া দ্রুত খালাস
বহুমাত্রিক যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগমন:
শুধুমাত্র সমুদ্রপথ নয়, মোংলাকে মূলধারার সাথে যুক্ত করতে খুলনা-মোংলা সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা, খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়ক এবং কনটেইনার ট্রেন চালুর কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিদেশি শিপিং প্রতিনিধিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘খান জাহান আলী বিমানবন্দর’ দ্রুত চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মোংলা বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, প্রস্তাবিত বেজা (BEZA) অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বড় শিল্পগোষ্ঠী কারখানা স্থাপন করবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কাজ হারানো স্থানীয় উপকূলীয় মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।
মোংলা বন্দরের এই রূপান্তরের ৩টি বড় জাতীয় তাৎপর্য:
বাণিজ্যে বৈপ্লবিক গতি: বিদেশি জাহাজগুলো সরাসরি মোংলায় নোঙর করলে পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও হিমায়িত চিংড়ির প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ হ্রাস: দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দরের যানজট ও কনটেইনার জট কমিয়ে বিকল্প প্রবেশদ্বার হিসেবে মোংলা জাতীয় অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
আঞ্চলিক ট্রেড হাব: সড়ক, রেল ও বিমানপথের সমন্বয়ে মোংলা বন্দর কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং ভারত, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আঞ্চলিক বাণিজ্যের ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করবে।
এনএন/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফরে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হওয়ার পথে মোংলা বন্দর সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: বাগেরহাট, ২৪ অক্টোবর – দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা এখন এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন