সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) এএসপি অভিজিৎ দাশ বলেছেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজারীরা যাতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে সেইজন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্নদলে বিভক্ত হয়ে সার্বক্ষনিক চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার ৯১টি মণ্ডপ এবং মন্দিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সজাগ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুদ্দিন শাহীন।
চকরিয়া থানার সম্মেলনকক্ষে বুধবার বিকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চকরিয়া উপজেলা ও চকরিয়া পৌরসভা কমিটির নেতৃবৃন্দ, চকরিয়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, চকরিয়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্ট, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও মন্দির মণ্ডপ কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু বাবলা দেবনাথ এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সভায় চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগেরদিন থেকে প্রতিটি মন্দির মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে কাজ করবেন। চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম টহলের পাশাপাশি উপজেলার মণ্ডপ গুলোতে পালাক্রমে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত থাকবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, অতীতের মতো এই দূর্গাপূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। মণ্ডপ গুলোতে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসি ক্যামরার আওতায় আনতে হবে এবং প্রশাসনের পাশাপাশি নিজস্ব সেচ্ছাসেবক গঠন করতে হবে।
উৎসব চলাকালে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিলে সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। প্রতিটি পুজা মন্ডপে আনসার-পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করবে।
কুতুবদিয়ায় সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্প পরিদর্শনে ডিপিএইচইর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু বাবলা দেবনাথ বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার মণ্ডপ গুলোতে নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে পূজারীরা যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে সেইজন্য চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানার পুলিশ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষথেকে সর্বাত্তক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
আমরা আশাবাদী প্রতিবছরের মতো এবারও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় উপজেলার ৯১ মণ্ডপে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এবং এএসপি অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার থানার সম্মেলনকক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাদা ভাবে মতবিনিময় সভা করেছেন।
আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসন প্রতিবছরের মতো এবারও নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে উৎসব আয়োজনে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার ৯১ মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালনে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে মন্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৪৪ মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে।
তিনি বলেন, শারদীয় উৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চকরিয়া উপজেলার মন্ডপ গুলোর জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের পরামর্শ সাপেক্ষে মন্ডপভিত্তিক এসব বরাদ্দ বিতরণ করা হবে।




মন্তব্য করুন