ব্যস্ত জীবন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি, এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। কথায় কথায় রেগে যাওয়া বা সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আপনি কি এই উপসর্গগুলোকে অবহেলা করছেন? কারণ এর আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রোগের ইঙ্গিত।
ডায়াবেটিসের মতোই থাইরয়েডের সমস্যাও আজকাল বাড়ছে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শরীরে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কোনো কারণে এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) একটি খুব সাধারণ সমস্যা।
বিয়ের পাত্র চেয়ে গুগল ফর্মে পোস্ট!: ২৪১ আবেদন ও দেড় হাজার মেসেজে তোলপাড়
চিকিৎসকরা বলছেন, থাইরয়েডের লক্ষণগুলো শুরুতে সেভাবে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। রোগীরা অনেক সময় ব্যাপারটা ধরতেই পারেন না। যে ধরনের উপসর্গ দেখা যায়, তা অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শরীরে ছোটখাটো পরিবর্তন এলেই সতর্ক হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়?
১. বিশ্রামের পরেও ক্লান্তি
মানসিক চাপ থাকলে মেজাজ খারাপ থাকতে পারে। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কথায় কথায় খিটখিটে হয়ে ওঠেন, বা সামান্য কারণেও খুব রাগ চড়ে যায়, আর এই উপসর্গগুলো যদি কিছুদিন ধরে চলতে থাকে, তবে থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করানো দরকার।
৩. ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি
ডায়েট করছেন না, অথচ হঠাৎ করে ওজন কমে যাচ্ছে বা বেড়ে যাচ্ছে? ওজনের এই অস্বাভাবিক তারতম্য অসুস্থতার ইঙ্গিতবাহী হতে পারে। শুধু থাইরয়েড নয়, ডায়াবেটিসের মতো রোগ হলেও এমনটা হতে পারে। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
৪. অতিরিক্ত চুল পড়া
৫. অনিয়মিত মাসিক (ঋতুস্রাব)
মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিকের কারণ হতে পারে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, চুল পড়া এবং অনিয়মিত মাসিক—এই লক্ষণগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে একদম দেরি না করে থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
৬. গলার স্বর এবং তাপমাত্রা সংবেদনশীলতা
বয়ঃসন্ধিকালে গলার স্বরে পরিবর্তন আসে। কিন্তু অন্য সময়ে হঠাৎ করে গলা ধরে যাওয়া বা স্বরের বদল ঘটলে সতর্ক হোন। এছাড়াও, সাধারণ গরম বা শীতকালেও যদি আপনার খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা লাগে, তবে সেটাও স্বাভাবিক নয়।
এই লক্ষণগুলোর দেখলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে থাইরয়েডের মাত্রা যাচাই করুন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
এনএন




মন্তব্য করুন