হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়া ভূমি অফিসে নাজিরের ‘নজরানা’ ছাড়া কি মেলে সেবা?

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে জর্জরিত কোনো দপ্তর? কক্সবাজারের উখিয়া ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীর ঘিরে ওঠা অভি…

ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে জর্জরিত কোনো দপ্তর? কক্সবাজারের উখিয়া ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীর ঘিরে ওঠা অভিযোগ এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে। চলতি বছরে ২৮ এপ্রিল যোগদানের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ দাবি এবং নিজেকে অফিসের ‘হর্তাকর্তা’ মনে করে চলার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে সে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন, সেখানে তিনি টাকার ভেন্ডার (ভেন্ডার আলমগীর) হিসেবে পরিচিত ছিলো।

অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের কার্যক্রমে নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীর প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জমি-সংক্রান্ত কাজে হয়রানি, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য হলে তা নিছক দাপ্তরিক অনিয়মের বিষয় নয়; বরং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুতর আঘাত। জমির মালিকানা ও ভূমিসেবা মানুষের সম্পদ এবং আইনগত অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত প্রভাব, দাপট কিংবা অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন উঠছে, একজন নাজিরের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কোথায়, আর তাঁর কথিত প্রভাবের পরিধিই বা কতটুকু? তিনি কি নির্ধারিত দায়িত্ব ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করছেন, নাকি ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন? সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কথিত ‘নজরানা’ বা ঘুষ দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। এমন গুরুতর অভিযোগে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ভূমি অফিসে জমির মালিকানা, নামজারি কিংবা রেকর্ড-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন, বিধিবিধান ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্রই মুখ্য। কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা, প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের কারণে এসব সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়—সেবাগ্রহীতারা তাঁদের আইনগত অধিকার অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন, নাকি হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা দাবির মুখে পড়ছেন? বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

পেচারদ্বীপে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু ৪

অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর ভাষ্য, কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থী প্রকাশ্যে বা লিখিত অভিযোগ করতে চান না। বরং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।

অভিযোগ উঠা কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ভূমি অফিসের নথিপত্র, সেবাপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু অভিযোগ অস্বীকার কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের নিষ্পত্তি সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ও দৃশ্যমান জবাবদিহি।

এখন প্রশ্ন, উখিয়া ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত কি না? অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কিংবা ঘুষ দাবির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে কি? অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, আর হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কতটুকু—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন।

সরকারি দপ্তরে পদ-পদবি দায়িত্ব পালনের জন্য, ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়। তাই নাজির আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ার পর্যালোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

জনগণের প্রশ্ন—উখিয়া ভূমি অফিস চলবে আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে, নাকি অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেও জবাবদিহির ঘাটতি থেকে যাবে? অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে?

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: উখিয়া ভূমি অফিসে নাজিরের ‘নজরানা’ ছাড়া কি মেলে সেবা? সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে জর্জরিত কোনো দপ্তর? কক্সবাজারের উখ। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

উখিয়া ভূমি অফিসে নাজিরের ‘নজরানা’ ছাড়া কি মেলে সেবা?

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়া ভূমি অফিসে নাজিরের ‘নজরানা’ ছাড়া কি মেলে সেবা?

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
Print Image
ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে জর্জরিত কোনো দপ্তর? কক্সবাজারের উখিয়া ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীর ঘিরে ওঠা অভিযোগ এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে। চলতি বছরে ২৮ এপ্রিল যোগদানের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ দাবি এবং নিজেকে অফিসের ‘হর্তাকর্তা’ মনে করে চলার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে সে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন, সেখানে তিনি টাকার ভেন্ডার (ভেন্ডার আলমগীর) হিসেবে পরিচিত ছিলো। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের কার্যক্রমে নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীর প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জমি-সংক্রান্ত কাজে হয়রানি, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য হলে তা নিছক দাপ্তরিক অনিয়মের বিষয় নয়; বরং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুতর আঘাত। জমির মালিকানা ও ভূমিসেবা মানুষের সম্পদ এবং আইনগত অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত প্রভাব, দাপট কিংবা অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশ্ন উঠছে, একজন নাজিরের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কোথায়, আর তাঁর কথিত প্রভাবের পরিধিই বা কতটুকু? তিনি কি নির্ধারিত দায়িত্ব ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করছেন, নাকি ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন? সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কথিত ‘নজরানা’ বা ঘুষ দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। এমন গুরুতর অভিযোগে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। ভূমি অফিসে জমির মালিকানা, নামজারি কিংবা রেকর্ড-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন, বিধিবিধান ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্রই মুখ্য। কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা, প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের কারণে এসব সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়—সেবাগ্রহীতারা তাঁদের আইনগত অধিকার অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন, নাকি হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা দাবির মুখে পড়ছেন? বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর ভাষ্য, কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থী প্রকাশ্যে বা লিখিত অভিযোগ করতে চান না। বরং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ উঠা কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ভূমি অফিসের নথিপত্র, সেবাপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু অভিযোগ অস্বীকার কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের নিষ্পত্তি সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ও দৃশ্যমান জবাবদিহি। এখন প্রশ্ন, উখিয়া ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত কি না? অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কিংবা ঘুষ দাবির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে কি? অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, আর হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কতটুকু—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। সরকারি দপ্তরে পদ-পদবি দায়িত্ব পালনের জন্য, ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়। তাই নাজির আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ার পর্যালোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। জনগণের প্রশ্ন—উখিয়া ভূমি অফিস চলবে আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে, নাকি অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেও জবাবদিহির ঘাটতি থেকে যাবে? অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে?

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×