ঢাকা, ২২ মে – পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সিরিজ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে এবার আরও বড় এবং কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষা। পাকিস্তান বধের পর আপাতত ক্রিকেটাররা কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেলেও, খুশির ঈদ কাটানোর পরপরই তাদের নামতে হচ্ছে রাজকীয় এক মিশনে। সাদা বলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া দল। যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে লড়বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অজি ও বাংলার বাঘেরা।
আসন্ন এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজ নিয়ে আজ শুক্রবার (২২ মে) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের মূল্যবান বিশ্লেষণ ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ২০০৫ সালে কার্ডিফ জয়ের মহানায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাঁচা-মরার লড়াই: আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলাটা যে বরাবরই অন্যরকম এক মনস্তাত্ত্বিক ও মাঠের লড়াই, তা অকপটে স্বীকার করেছেন আশরাফুল। অজিদের বিপক্ষে অতীতের লড়াইয়ের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলাটা অবশ্যই কঠিন হবে। আমরা ২০০৫ সালে কার্ডিফে ওদের হারিয়েছিলাম, এরপরে আসলে আর কখনোই জেতা হয়নি। যদিও আমরা ওদের বিপক্ষে অত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। অল্প ম্যাচ খেলেছি কিন্তু আর জেতা হয়নি। আমি যখন জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলাম, একবার কাছাকাছি গিয়েছিলাম।”
২০০৫ সালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজে অজিদের হারানোর রূপকথা এখনো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। এর তিন বছর পর ২০০৮ সালে ডারউইনে তামিম ইকবালের ম্যাচসেরা ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লড়াই করে হারের আফসোসও ঝরে পড়লো আশরাফুলের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “২০০৮ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম, তাদের ১৯৮ রানে অলআউট করেছিলাম। ওই ম্যাচটায় তামিম অর্ধশতক করেছিল, সাকিবও ভালো করে, কিন্তু জিততে পারিনি। ওই একটা ম্যাচই মনে হয় আমরা খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম, যেটা আমাদের জেতার মতো ছিল।”
এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের আগস্টে মিরপুরের মন্থর ও স্পিন ট্র্যাকে খেলতে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছে ক্যাঙ্গারুরা। অতিথিদের বিপক্ষে এবারও দেশের মাটির সুবিধা নিয়ে জয় তুলে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এই সাবেক ড্যাশিং ব্যাটার।
ঈদের ছুটির আমেজ শেষ হতেই মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম মেতে উঠবে অজি বধের মহাকাব্যে। পাকিস্তানের পর এবার ঘরের মাঠে প্যাট কামিন্স-মিচেল মার্শদের রুখে দিয়ে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস গড়তে পারবে তো? কোটি ভক্তের চোখ এখন সেদিকেই।
২০০৫ সালের পর আবারও কি ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ? আশরাফুলের এই বিশ্বাসের সাথে আপনি কি একমত? কমেন্টে আপনার মতামত জানান এবং ক্রিকেট ভক্তদের সাথে প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।
এনএন/ ২২ মে ২০২৬



মন্তব্য করুন