মস্কো, ২০ মার্চ – ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে দেশটির সরকার। মস্কো বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মেসেজিং অ্যাপ ও ভিপিএন সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানী মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রতিদিনই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকছে। এর ফলে অফিস কর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং তরুণদের বারবার ভিপিএন পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
পাকিস্তানের কাসুরে বিএসএফের গুলিতে দুই বেসামরিক নিহত, আহত ১
এছাড়া অনলাইন নেভিগেশন সুবিধা না থাকায় ট্যাক্সিচালকরাও মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর রুশ আইন মানতে অনীহা এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই মূলত এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই সঙ্গে শত শত ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারেন।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, মস্কোর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং যুদ্ধকালীন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সম্ভাব্য ভিন্নমত দমন করতে ক্রেমলিন এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের নির্দেশে মোবাইল অপারেটরদের হাতে ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে দেশটিতে।




মন্তব্য করুন