বাগদাদ, ১২ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আঁচ এবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলেও পৌঁছেছে। বুধবার দিবাগত রাতে উত্তর ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত ‘ক্যাম্প সিঙ্গারা’ নামক একটি ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনায় কোনো ইতালীয় সেনার হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি ছেড়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা ও সামান্তা শারমিন
প্রাথমিক পর্যায়ে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে জানা যায় এটি একটি ড্রোন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ড্রোনটি উচ্চতা হারিয়ে সরাসরি সামরিক ঘাঁটির সীমানার ভেতর আছড়ে পড়ে। এর ফলে ঘাঁটির একটি সামরিক যান এবং কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইতালি সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ঘাঁটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজ্জোত্তি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে এই সতর্কতা পাওয়ার পর পরই ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় তিনশ ইতালীয় সেনাকে নিরাপদ বাংকারে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত একটার দিকে ড্রোনটি আঘাত হানে। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পুরো এলাকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও ঘাঁটিতে এখনো এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইরবিলের গভর্নর ওমেদ খোশনাও জানিয়েছেন ওই রাতে ইরবিলে মোট সতেরোটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং এর বেশিরভাগই সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ইতালীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ইরাকে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকেও হামলার বিষয়ে দ্রুত অবহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ড্রোনটি সরাসরি ইতালীয়দের লক্ষ্য করে নয় বরং আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ওই ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে।
এনএন/ ১২ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন