হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আক্রান্ত দোহা ও দুবাই: উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন


দোহা, ২ মার্চ – উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজেদের শহরের বুকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা কিংবা আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়া দেখা একসময় ছিল প্রায় অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের নতুন পর্যায়ে দোহা, দুবাই ও মানামায় আঘাত হানার পর সেই কঠিন বাস্তবতাই এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে যে এসব দেশ কি সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে নাকি শেষ পর্যন্ত সংযমের পথই বেছে নেবে। গতকাল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে দোহা, দুবাই ও মানামা।

এতে কেবল কাঁচ বা কংক্রিটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং ভেঙে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিও। বিশ্লেষকদের মতে দেশগুলো এখন এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। পাল্টা আঘাত করে তারা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধের অংশীদার হবে নাকি নিজেদের শহরে আগুন জ্বলতে দেখেও নিষ্ক্রিয় থাকবে তা এখন বড় প্রশ্ন। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবির অধ্যাপক মনিকা মার্কস আল জাজিরাকে জানান যে মানামা, দোহা বা দুবাইয়ে বোমা পড়ার ঘটনা এখানকার মানুষের কাছে ঠিক ততটাই অবিশ্বাস্য যতটা অবিশ্বাস্য আমেরিকানদের কাছে সিয়াটল বা মিয়ামিতে বোমা পড়ার ঘটনা।

আরও পড়ুন

জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই আক্রমণ পরিচালনা করে। উল্লেখ্য যে ওই যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং অন্তত ১৪৮ জন প্রাণ হারান। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুবাই বিমানবন্দর, মানামার বহুতল ভবন এবং কুয়েত বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। রিয়াদ ও দোহার আকাশেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো শুরু থেকেই এই সংঘাত এড়াতে চেয়েছিল। হামলার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি জানিয়েছিলেন যে শান্তি আলোচনার পথ সুগম ছিল কারণ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে পরিস্থিতি বদলে দেয়। অধ্যাপক মনিকা মার্কস বলেন যে উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধকে ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসতে দেখেছে এবং তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা আশঙ্কা করেছিল যে কোণঠাঁসা ইরান পরাজয় মেনে নেওয়ার চেয়ে প্রতিবেশীদের জিম্মি করার পথ বেছে নিতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের লেকচারার রব গেস্ট পিনফোল্ড মনে করেন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের বৈধতা রক্ষা করা। ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের জন্য মানহানিকর হতে পারে আবার হাত গুটিয়ে বসে থাকাও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দুই বিশ্লেষকই মনে করেন যে উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে পারে তবে তা হবে তাদের নিজেদের শর্তে। রব গেস্ট পিনফোল্ডের মতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বদলে তারা পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্সের মতো নিজস্ব যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালাতে পারে।


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আক্রান্ত দোহা ও দুবাই: উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আক্রান্ত দোহা ও দুবাই: উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] দোহা, ২ মার্চ – উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজেদের শহরের বুকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা কিংবা আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়া দেখা একসময় ছিল প্রায় অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের নতুন পর্যায়ে দোহা, দুবাই ও মানামায় আঘাত হানার পর সেই কঠিন বাস্তবতাই এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে যে এসব দেশ কি সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে নাকি শেষ পর্যন্ত সংযমের পথই বেছে নেবে। গতকাল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে দোহা, দুবাই ও মানামা।এতে কেবল কাঁচ বা কংক্রিটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং ভেঙে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিও। বিশ্লেষকদের মতে দেশগুলো এখন এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। পাল্টা আঘাত করে তারা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধের অংশীদার হবে নাকি নিজেদের শহরে আগুন জ্বলতে দেখেও নিষ্ক্রিয় থাকবে তা এখন বড় প্রশ্ন। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবির অধ্যাপক মনিকা মার্কস আল জাজিরাকে জানান যে মানামা, দোহা বা দুবাইয়ে বোমা পড়ার ঘটনা এখানকার মানুষের কাছে ঠিক ততটাই অবিশ্বাস্য যতটা অবিশ্বাস্য আমেরিকানদের কাছে সিয়াটল বা মিয়ামিতে বোমা পড়ার ঘটনা।শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই আক্রমণ পরিচালনা করে। উল্লেখ্য যে ওই যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং অন্তত ১৪৮ জন প্রাণ হারান। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুবাই বিমানবন্দর, মানামার বহুতল ভবন এবং কুয়েত বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। রিয়াদ ও দোহার আকাশেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।উপসাগরীয় দেশগুলো শুরু থেকেই এই সংঘাত এড়াতে চেয়েছিল। হামলার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি জানিয়েছিলেন যে শান্তি আলোচনার পথ সুগম ছিল কারণ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে পরিস্থিতি বদলে দেয়। অধ্যাপক মনিকা মার্কস বলেন যে উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধকে ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসতে দেখেছে এবং তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা আশঙ্কা করেছিল যে কোণঠাঁসা ইরান পরাজয় মেনে নেওয়ার চেয়ে প্রতিবেশীদের জিম্মি করার পথ বেছে নিতে পারে।কিংস কলেজ লন্ডনের লেকচারার রব গেস্ট পিনফোল্ড মনে করেন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের বৈধতা রক্ষা করা। ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের জন্য মানহানিকর হতে পারে আবার হাত গুটিয়ে বসে থাকাও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দুই বিশ্লেষকই মনে করেন যে উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে পারে তবে তা হবে তাদের নিজেদের শর্তে। রব গেস্ট পিনফোল্ডের মতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বদলে তারা পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্সের মতো নিজস্ব যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালাতে পারে। [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×