কক্সবাজার শহরে বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা না দেওয়ায় গণেশ পাল (৪০) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লন কাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গণেশ পাল ওই এলাকার বাসিন্দা বিশ্বনাথ পালের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গণেশ পালের বাড়িতে একটি শৌচাগার নির্মাণের জন্য সেপটিক ট্যাংকের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য জিদান, মারুফ ও বাদশার নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ গণেশ পালের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে গণেশ তার মামা সুজিতকে ঘটনাস্থলে আসতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজে ইরানের বিশেষ ছাড়
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা গণেশ পালকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী নেপালী পাল জানান, এর আগের রাতেও জিদান নামে এক ব্যক্তি তার স্বামীর দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল। শনিবার দুপুরে জিদান ও তার সহযোগীরা বাড়িতে এসে দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শৌচাগারের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলে। গণেশ প্রতিবাদ করলে তাদের সামনেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।
অভিযুক্ত জিদানের বাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের পল্লইন্যাকাটা এলাকায়। তিনি রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। এই চাঁদাবাজ চক্রটির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।সংবাদ সতর্কতা
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণেশ পালের হত্যাকারী চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।




মন্তব্য করুন