ঢাকা, ১০ অক্টোবর – গত সরকারের শাসনামলে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব করা গণমাধ্যমের মালিক ও সম্পাদককে অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যমে জুলাই ও তারপর’ শীর্ষক প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মিরপুরে টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ: ছিটকে গেলেন মুশফিক, অভিষেক হৃদয়ের
উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে গণমাধ্যমের ভূমিকার আত্মসমালোচনা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে গণমাধ্যমে যে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে, তা তদন্ত করার জন্য গত মে মাসের শেষের দিকে (অথবা জুন মাসের শুরুতে) জাতিসংঘকে পত্র দেওয়া হয়েছিল। গত আগস্ট মাসে জাতিসংঘ থেকে ইউনেস্কোর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে। ইউনেস্কো বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে গণমাধ্যমের অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি। তবে ইউনেস্কো সাংবাদিকদের আচরণবিধি (কোড অব কনডাক্ট) তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, যেসব গণমাধ্যম বিগত সরকারের শাসনামলে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব করেছে, সেসব গণমাধ্যমের মালিক ও সম্পাদককে অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হওয়া উচিত, জনগণের কাছে আসা উচিত।
বেসরকারি নতুন টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা টেলিভিশনে নতুন মুখ দেখতে চান না, তারাই টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন নিয়ে হাহাকার করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন মিডিয়া দিতে চাই। এই নতুন মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন মুখ আসবে, নতুন ন্যারেটিভ (বয়ান) আসবে, নতুন বক্তব্য আসবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর পিআইবির প্রকাশিত গ্রন্থের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী পিআইবি বেশ ভালো প্রকাশনা করেছে। এসব প্রকাশনা ইতিহাসচর্চায় কাজে দেবে। একই সঙ্গে রেফারেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশ করায় উপদেষ্টা পিআইবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, ইতিহাস থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুছে ফেলা যাবে না। এই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, অনেকে মনে করেন, অভ্যুত্থানের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এই ধারণা সঠিক নয়। এই দেশকে গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন গবেষক ও লেখক সাইমুম পারভেজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। আলোচনা সভায় সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরদৌস আজিম। অনুষ্ঠানে পিআইবি প্রকাশিত পাঁচটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থসমূহ হলো—‘তারিখে জুলাই’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবিতা’, ‘নিরীক্ষা: অভ্যুত্থান মিডিয়া বয়ান’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: যে সাংবাদিকদের হারিয়েছি’ ও ‘ঘটনাপঞ্জি ২০২৪’। মোড়ক উন্মোচনের পর অনুষ্ঠানে বাংলাফ্যাক্ট ডটকম ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৫




মন্তব্য করুন