জেরুজালেম, ২৯ ডিসেম্বর – গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের অন্তত ৭০৬ জন স্বজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি নয়, বরং সচেতন ও পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি ছেড়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা ও সামান্তা শারমিন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সহিংসতা এখন আরও বিপজ্জনক ও নির্মম রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও স্বজনদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যেন সাংবাদিকতা নিজেই এক অস্তিত্ব সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্রিডমস কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আল-লাহহাম বলেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামলার ধরন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে গাজায় স্বাধীন সাংবাদিকতা দমন করাই ইসরায়েলের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ক্যামেরা ও শিশুর মধ্যে, কলম ও ঘরের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে ইসরায়েল সত্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে।
আল-লাহহাম আরও বলেন, সাংবাদিকদের পরিবারের রক্ত ফিলিস্তিনি কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টার অপরাধের জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।
কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে শত শত শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকদের বাড়ি, আশ্রয়স্থল এবং সাংবাদিক ও তাদের স্বজনদের অবস্থান জানা এলাকাগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আর জীবিত সাংবাদিকদের সেই ধ্বংসের সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের মানসিক বিপর্যয়ের কথাও তুলে ধরা হয়। সন্তান, জীবনসঙ্গী বা বাবা-মা হারানো সাংবাদিকরা গভীর মানসিক আঘাত, অপরাধবোধ ও পারিবারিক ভাঙনের মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই এই সহিংসতার চাপে কাজ বন্ধ করতে বা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মাসে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। শিরিন ডট পিএস নামে একটি পর্যবেক্ষণ সাইটের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই সাইটটির নামকরণ করা হয়েছে আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর নামে, যিনি ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিহত হন।
সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন/ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন