কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের (নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার) বদরখালীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে।
উপকুলের সমুদ্র চ্যানেল লাগোয়া এলাকায় কৌশলে গড়ে তোলা অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে পুলিশ এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও দুই নারীসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া হালকাচাপাড়া নামক এলাকায় চকরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চকরিয়া থানার সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিষয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ওসি মোঃ আরিফুর রহমান।
চকরিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থীরা, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি নোটিশ
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে- দেশে তৈরি ১টি দুইনলা রাইফেল, ১টি একনলা রাইফেল, ১টি শর্টগান, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, কার্তুজের খোসা, অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৬টি মোবাইল ফোন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মোঃ সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০), তাদের সহযোগী জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ওসি মোঃ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ টিম লাল ব্রীজ এলাকা থেকে দুর্গম ছনুয়া পাড়ায় প্রায় ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়ে একটি বসতঘর ঘেরাও করে প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে অনতিদূরে হালকাচাপাড়ার একটি পুকুর থেকে বস্তাভর্তি ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধারসহ শহর বানু নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়া চক্রটি উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অস্ত্র ও গুলি তৈরি, বেচাকেনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অন্যান্য ডাকাত দলের কাছে অস্ত্র ভাড়া দিত।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার সকালে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতি আইনে পৃথক দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
পরে একইদিন দুপুরে গ্রেফতার ছয়জনকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সৌপদ্দ করা হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: চকরিয়ায় উপকুলে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান: বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ গ্রেফতার ৬ সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের (নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার) বদরখালীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন