ঢাকা, ০৬ আগস্ট – অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রে জনআকাঙ্খার কিছু বিষয় ‘অনুপস্থিত’ থাকলেও, তা স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে দলের এই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চলমান রাষ্ট্রসংস্কার উদ্যোগগুলো দৃশ্যমান করার বিষয়টি সরকারকে ফের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঘোষণাপত্র ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।
হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজে ইরানের বিশেষ ছাড়
আখতার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে সরকারের অবশ্য পালনীয় কিছু কর্তব্য রয়েছে। গণহত্যাকারীদের বিচার, রাষ্ট্রকাঠামোর গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কারকে দৃশ্যমান করতে হবে।
জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে এনসিপি পর্যালোচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের কাছে কিছু বিষয় নিয়ে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। তার কিছু বিষয় এখানে অনুপস্থিত থেকে গেছে। যেমন- উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ঘটনাকে এখানে উল্লেখ করা হয়নি। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, ২০১৮ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন, মোদি বিরোধী আন্দোলনের কথা এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকলে এটি পরিপূর্ণ হতো।
জুলাই ঘোষণাপত্রে সরকারের পতন ঘটানো জুলাই আন্দোলনে শহীদের সঠিক সংখ্যা ‘আসেনি’ বলে মন্তব্য করেন আখতার। তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে শহীদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার বলা হয়েছে। অথচ জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪০০ মানুষ শহীদ হওয়ার কথা আমাদের জানা। সরকার বিগত এক বছরে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, আরিফুল ইসলাম আদীব, সালেহউদ্দিন সিফাতসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ০৬ আগস্ট ২০২৫




মন্তব্য করুন