হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে যৌথ অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

শহিদুল ইসলাম::

শহিদুল ইসলাম::

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মুক্তিপণের দাবিতে জিন্মি রাখা ৪ তরুণকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। যে ৪ জনের ৩ জন ফেনী এবং অপরজনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়।

মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ১৫ এর সহকারি পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারি পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

উদ্ধার ৪ জন হলেন, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার গণিপুর এলাকার আবদুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), একই এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ এমাম হোসেন (১৮), ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯), হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার নোয়াঐ এলাকার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।

র‌্যাব ১৫ এর সহকারি পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারি পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, গত গত ২৬ জুন ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান এবং তহিদুল ইসলাম তামিম নামের দুই তরুণ। ২৮ জুন এব্যাপারে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২২১) করা হয়। ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে র‌্যাব-১৫-এর একটি চৌকস গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ তরুণরা কোনো সাধারণ নিখোঁজ নন, বরং তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের জালে বন্দি। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের পর র‌্যাব-১৫ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে টেকনাফের হ্নীলার রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ে প্রবেশ করে। চারপাশ থেকে পাহাড় ঘেরাও করে যখন যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে, তখন অপরাধীরা মরণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এলিট ফোর্সের রণকৌশলের সামনে টিকতে না পেরে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪ জনকে।

আরও পড়ুন

উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার

উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল। এরপর পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর চালানো হতো মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল।

৪ জনকে পরবর্তী প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা এবং তার সহযোগীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে র‌্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ২ দিন আগে গত ২৮ জন দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে অপহৃত পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামাল (৬৫) এর হদিস মিলেনি এখনও।

২৮ জুন দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালিয়া জুম্মাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামাল (৬৫) একই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে যৌথ অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে যৌথ অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম:: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মুক্তিপণের দাবিতে জিন্মি রাখা ৪ তরুণকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। যে ৪ জনের ৩ জন ফেনী এবং অপরজনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ১৫ এর সহকারি পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারি পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক। উদ্ধার ৪ জন হলেন, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার গণিপুর এলাকার আবদুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), একই এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ এমাম হোসেন (১৮), ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯), হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার নোয়াঐ এলাকার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)। র‌্যাব ১৫ এর সহকারি পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারি পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, গত গত ২৬ জুন ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান এবং তহিদুল ইসলাম তামিম নামের দুই তরুণ। ২৮ জুন এব্যাপারে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২২১) করা হয়। ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে র‌্যাব-১৫-এর একটি চৌকস গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ তরুণরা কোনো সাধারণ নিখোঁজ নন, বরং তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের জালে বন্দি। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের পর র‌্যাব-১৫ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে টেকনাফের হ্নীলার রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ে প্রবেশ করে। চারপাশ থেকে পাহাড় ঘেরাও করে যখন যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে, তখন অপরাধীরা মরণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এলিট ফোর্সের রণকৌশলের সামনে টিকতে না পেরে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪ জনকে। উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল। এরপর পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর চালানো হতো মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল। ৪ জনকে পরবর্তী প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা এবং তার সহযোগীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে র‌্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, ২ দিন আগে গত ২৮ জন দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে অপহৃত পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামাল (৬৫) এর হদিস মিলেনি এখনও। ২৮ জুন দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালিয়া জুম্মাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ডা. কামাল উদ্দিন ওরফে বিএ কামাল (৬৫) একই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পল্লী ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×