কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে অপহরণের শিকার মো. ইসমাইল (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫।
তবে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া ইসমাইল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লালপাহাড় এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদাপাড়া এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা একটি অপহরণকারী চক্র মো. ইসমাইলকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের বোন সমসু নাহার বাদী হয়ে ১৬ জুলাই টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি ছেড়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা ও সামান্তা শারমিন
বিষয়টি জানার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।
এরই ধারাবাহিকতায়, শনিবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে শালবাগান রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপহৃত ইসমাইলের অবস্থান শনাক্ত করে চারদিক থেকে ঘেরাও করে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বন্দি ভিকটিমকে ফেলে রেখে কৌশলে গহীন পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে র্যাব সদস্যরা ভিকটিম মো. ইসমাইলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, অপহরণের পর তাকে গহীন পাহাড়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছিল চক্রটি। মুক্তিপণের টাকা দ্রুত আদায়ের জন্য তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনও চালানো হচ্ছিল।
সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক অপহরণকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারে পাহাড়ি এলাকায় র্যাবের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




মন্তব্য করুন