হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

দরিয়ানগরে ১৪ বছর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

সোমবার, ১ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর বড়ছড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন’ এ উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। জাতীয় সংগীতের তালে তালে সুতোয় টান দিয়ে স্থানীয়রা যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিল তখন তাদের প্রত্যেকের চোখ ছিল অশ্রæসিক্ত। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে দেড়-দুই যুগে আগের ফেলে আসা দিনে ফিরে যায়। এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
দরিয়ানগর থেকে ১৪ বছর পর রাজারবাগীরা আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রোববার ঝাউবন স্কুলে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড পূননির্মাণ করে গ্রামবাসী। সোমবার (১ নভেম্বর) সকালে অতিথিদের সাথে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে সেখানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবীর হিমু, কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়েস এর প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এইচএম নজরুল, টেরিটোরিয়াল নিউজ এর চিফ রিপোর্টার আজিম নিহাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াস। আরো বক্তব্য রাখেন দরিয়ানগর বড়ছড়া যুবসমাজের সভাপতি মাহবুব আলম, সহ-সভাপতি আবু ফরহাদ বোখারী হিরু, সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা পারভেজ মোশাররফ, স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ, আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম, কৃষক লীগ নেতা ইমাম হোসেন, শ্রমিক নেতা মো. রুবেল, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আজিজ প্রমূখ। এসময় এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বী ও বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য. রাজারবাগীরা স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে স্কুলের দখল বুঝিয়ে দিয়ে রোববার দুপুরের আগেই তল্পিতল্পা নিয়ে সরে যায় তারা। প্রায় ১৪ বছর আগে এক একর আয়তনের জমিসহ এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি ও আরো একই পরিমাণ জমিসহ গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি জোরপূর্বক জবর দখল করে রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড তুলে দেয়া হয়েছিল। এনিয়ে গ্রামবাসীর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে জামে মসজিদ থেকে এবং গত রোববার স্কুল থেকে আস্তানা সরিয়ে নেয় রাজারবাগীরা।
এলাকাবাসী জানান, নব্বই এর দশকের শুরুতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৭ সালে উন্নত ও বিনাবেতনে শিক্ষাদানের প্রতিশ্রæতি দিয়ে স্কুলটি দখল করে নেয় রাজারবাগীরা। এরপর স্কুলটি বন্ধ করে সেখানে কথিত মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুলানো হলেও বাস্তবে সেখানে কেউ পড়ালেখার সুযোগ পেত না। জবর দখলমুক্ত হওয়ার পর স্কুলটি একই নামে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, এসব আস্তানা থেকে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ‘পীরের কেরামতি’ ফলায় রাজারবাগ পীরের বেতনধারী সহযোগীরা।
এর শিকার শহরতলীর এই গ্রামের বহু মানুষ। সেসাথে মসজিদে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো ছিল নৈমিত্তিক বিষয়। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিক্ষুব্দ এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আস্তানা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজারবাগীরা।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

আরও পড়ুন

হাসপাতালে ভর্তি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

দরিয়ানগরে ১৪ বছর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

দরিয়ানগরে ১৪ বছর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: সোমবার, ১ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
Print Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর বড়ছড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন’ এ উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। জাতীয় সংগীতের তালে তালে সুতোয় টান দিয়ে স্থানীয়রা যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিল তখন তাদের প্রত্যেকের চোখ ছিল অশ্রæসিক্ত। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে দেড়-দুই যুগে আগের ফেলে আসা দিনে ফিরে যায়। এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। দরিয়ানগর থেকে ১৪ বছর পর রাজারবাগীরা আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রোববার ঝাউবন স্কুলে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড পূননির্মাণ করে গ্রামবাসী। সোমবার (১ নভেম্বর) সকালে অতিথিদের সাথে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে সেখানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবীর হিমু, কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়েস এর প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এইচএম নজরুল, টেরিটোরিয়াল নিউজ এর চিফ রিপোর্টার আজিম নিহাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াস। আরো বক্তব্য রাখেন দরিয়ানগর বড়ছড়া যুবসমাজের সভাপতি মাহবুব আলম, সহ-সভাপতি আবু ফরহাদ বোখারী হিরু, সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা পারভেজ মোশাররফ, স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ, আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম, কৃষক লীগ নেতা ইমাম হোসেন, শ্রমিক নেতা মো. রুবেল, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আজিজ প্রমূখ। এসময় এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বী ও বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য. রাজারবাগীরা স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে স্কুলের দখল বুঝিয়ে দিয়ে রোববার দুপুরের আগেই তল্পিতল্পা নিয়ে সরে যায় তারা। প্রায় ১৪ বছর আগে এক একর আয়তনের জমিসহ এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি ও আরো একই পরিমাণ জমিসহ গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি জোরপূর্বক জবর দখল করে রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড তুলে দেয়া হয়েছিল। এনিয়ে গ্রামবাসীর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে জামে মসজিদ থেকে এবং গত রোববার স্কুল থেকে আস্তানা সরিয়ে নেয় রাজারবাগীরা। এলাকাবাসী জানান, নব্বই এর দশকের শুরুতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৭ সালে উন্নত ও বিনাবেতনে শিক্ষাদানের প্রতিশ্রæতি দিয়ে স্কুলটি দখল করে নেয় রাজারবাগীরা। এরপর স্কুলটি বন্ধ করে সেখানে কথিত মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুলানো হলেও বাস্তবে সেখানে কেউ পড়ালেখার সুযোগ পেত না। জবর দখলমুক্ত হওয়ার পর স্কুলটি একই নামে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী। অভিযোগ রয়েছে, এসব আস্তানা থেকে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ‘পীরের কেরামতি’ ফলায় রাজারবাগ পীরের বেতনধারী সহযোগীরা। এর শিকার শহরতলীর এই গ্রামের বহু মানুষ। সেসাথে মসজিদে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো ছিল নৈমিত্তিক বিষয়। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিক্ষুব্দ এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আস্তানা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজারবাগীরা।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×