হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

দুই বছরেও চালু করা যায়নি কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই লাখ বর্গফুট আয়তনের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয় দুই বছরেরও বেশি সময় আগে।

তবে এখনো চালু করা যায়নি এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় বৃহৎ এ স্থাপনাটির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। হোটেল, বিপণি, বিনোদন কেন্দ্র, অফিস স্পেসের ব্যবস্থা থাকা এ স্থাপনা থেকে বিপুল আয়ের সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গত দুই বছরে স্টেশনটি থেকে আশানুরূপ আয় করতে পারেনি রেলওয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ রেলওয়ে কাম কমার্শিয়াল ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। একই সময়ে শেষ হয়েছে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের নির্মাণকাজ। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও রেলপথটিতে চলাচল করছে মাত্র চার জোড়া ট্রেন। অথচ এ পথে সারা দেশের সঙ্গে দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের সক্ষমতার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে। সব মিলিয়ে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের কারণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে সংস্থাটি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের ফলে এ রুটে সারা দেশের সঙ্গে দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। এ সংখ্যক ট্রেন অপারেশনে দুই হাজার বাড়তি জনবল প্রয়োজন রেলের। কিন্তু প্রস্তাব পাঠানোর পরও অনুমোদন না হওয়ায় এখনো পুরনো জনবল দিয়ে ট্রেন অপারেশন করছে তারা। ফলে সারা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রেল রুট হলেও এ পথে সীমিতসংখ্যক ট্রেন অপারেশন করছে রেলওয়ে।

এছাড়া কক্সবাজারে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রেলওয়ে কাম কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ করা হলেও অনভিজ্ঞতার কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় স্টেশন পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে রেলওয়ে প্রশাসন। রেলওয়ের নথিপত্র বলছে, ২৯ একর জমিতে কক্সবাজার স্টেশন নির্মাণ হলেও মূল ভবনটি ২২ দশমিক ৭২ একর জমিতে নির্মিত। ঝিনুকের আকৃতিতে তৈরি ছয়তলা ভবনটিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট স্পেস এরিয়া। হোটেল, কনফারেন্স রুম, বিপণি কেন্দ্র, অফিস স্পেস, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন কেন্দ্রসহ এ ভবন থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকা আয়ের সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গত ২৭ মাসে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে রেলওয়ে।

আরও পড়ুন

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’

জানা গেছে, সম্প্রতি আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করতে দরপত্র আহ্বান করেছে রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ। হোটেল ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী-বিদেশী কিংবা যৌথ অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইজারা দিতে চায় রেলওয়ে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী রেলওয়েকে এককালীন ৫ কোটি টাকা দিতে হবে দরপত্রে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে। অফেরতযোগ্য এ আর্থিক রাজস্বের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা করবে। এর বিনিময়ে স্টেশনটির নকশাকৃত ফ্লোরগুলোতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে পারবে তারা। প্রতি বছর চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে।

গত ২৫ জানুয়ারি পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের সমন্বিত ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ‘ইনভিটেশন ফর প্রপোজাল ফর ইন্টিগ্রেটেড ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন অব কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন’ শীর্ষক এ পরিকল্পনায় দেশী-বিদেশী আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা কনসোর্টিয়ামকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হেডকোয়ার্টার থেকে এখন পর্যন্ত শিডিউল বিক্রির পরিমাণ আশানুরূপ নয়।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের দপ্তর এবং পাহাড়তলীতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটিও শিডিউল বিক্রি হয়নি। তবে ঢাকায় রেল ভবনে উপপরিচালক (টিসি) কার্যালয় থেকে তিনটি শিডিউল বিক্রি হয়েছে। বড় এ প্রস্তাবে শিডিউল বিক্রির হার আশানুরূপ না হওয়ায় বড় বিনিয়োগের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে রেলের রাজস্ব আয় নিয়ে সন্দিহান রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের রেলওয়ে স্টেশন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের উদ্যোগের কারণে স্টেশনটি ইজারার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। তাছাড়া উদ্বোধনের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাও এর জন্য দায়ী। আশা করছি, এখন দরপত্র আহ্বান হওয়ায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে জটিলতা কেটে যাবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহৎ মাল্টি কমপ্লেক্স স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাছাড়া ২০২৩ সালের শেষ দিকে ট্রেন চলাচল শুরু করলেও এখনো এ পথে ট্রেন চলাচল বাড়াতে পারেনি রেলওয়ে। লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে ট্রেন চলাচল না বাড়ালেও বিদ্যমান ট্রেনগুলোর রুট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও উদাসীন রেলওয়ে। এ কারণে বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও রেলপথে কক্সবাজার যেতে যাত্রীরা ঢাকা থেকে দুটি এবং চট্টগ্রাম থেকে দুটি ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলো সারা দেশের যেকোনো ট্রেনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয় করলেও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে রেলওয়ে বাড়তি রাজস্ব আয় থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে স্টেশন কমপ্লেক্সটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় পরিকল্পনামাফিক যাত্রীসেবাও দিতে পারছে না রেলওয়ে।

রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রেলের ৭০ হাজার একরের ভূমি ও স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল ও দক্ষতার অভাবে আর্থিকভাবে বড় লোকসানে রয়েছে সংস্থাটি। ২০০৫ সালে ৩৩৭ একরের ফয়’স লেক ৫০ বছরের জন্য বাণিজ্যিক ইজারার ক্ষেত্রেও লাভের পরিবর্তে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে। কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অসংগতিতে এখনো ভুগছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটন নগরীতে বৃহৎ এ মাল্টি কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল রেলওয়ের। কিন্তু এ ধরনের স্থাপনা ব্যবহারে অদক্ষতা, বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও অদক্ষতার কারণেই সংকটে পড়েছে রেলওয়ে। সংস্থাটি চাইলে বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে ইজারায় রেলের হিস্যা নিশ্চিত করতে পারত।

তাছাড়া দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সীমিত ট্রেন চলাচলের কারণে আইকনিক স্টেশনটি ইজারা দেয়ার মাধ্যমে রেলওয়ে কাঙ্ক্ষিত দর পাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ না নেয়ায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও রাজস্ব আয় নিয়েও সন্দিহান রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন কমপ্লেক্সটি রেলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। এ কারণে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে নাকি ইজারা দেয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া বড় এ কমপ্লেক্সের ইজারার শর্ত তৈরি করতেও সময় ব্যয় হয়েছে। এখন দরপত্র ঘোষণার ফলে দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে যোগ্য ও সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কমপ্লেক্সটি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়া হবে। আশা করি, স্টেশনটি কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে।

সুত্র: বণিক বার্তা

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

দুই বছরেও চালু করা যায়নি কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

দুই বছরেও চালু করা যায়নি কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
Print Image
২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই লাখ বর্গফুট আয়তনের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয় দুই বছরেরও বেশি সময় আগে। তবে এখনো চালু করা যায়নি এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় বৃহৎ এ স্থাপনাটির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। হোটেল, বিপণি, বিনোদন কেন্দ্র, অফিস স্পেসের ব্যবস্থা থাকা এ স্থাপনা থেকে বিপুল আয়ের সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গত দুই বছরে স্টেশনটি থেকে আশানুরূপ আয় করতে পারেনি রেলওয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ রেলওয়ে কাম কমার্শিয়াল ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। একই সময়ে শেষ হয়েছে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের নির্মাণকাজ। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও রেলপথটিতে চলাচল করছে মাত্র চার জোড়া ট্রেন। অথচ এ পথে সারা দেশের সঙ্গে দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের সক্ষমতার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে। সব মিলিয়ে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের কারণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে সংস্থাটি। রেলওয়ে সূত্র জানায়, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের ফলে এ রুটে সারা দেশের সঙ্গে দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। এ সংখ্যক ট্রেন অপারেশনে দুই হাজার বাড়তি জনবল প্রয়োজন রেলের। কিন্তু প্রস্তাব পাঠানোর পরও অনুমোদন না হওয়ায় এখনো পুরনো জনবল দিয়ে ট্রেন অপারেশন করছে তারা। ফলে সারা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রেল রুট হলেও এ পথে সীমিতসংখ্যক ট্রেন অপারেশন করছে রেলওয়ে। এছাড়া কক্সবাজারে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রেলওয়ে কাম কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ করা হলেও অনভিজ্ঞতার কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় স্টেশন পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে রেলওয়ে প্রশাসন। রেলওয়ের নথিপত্র বলছে, ২৯ একর জমিতে কক্সবাজার স্টেশন নির্মাণ হলেও মূল ভবনটি ২২ দশমিক ৭২ একর জমিতে নির্মিত। ঝিনুকের আকৃতিতে তৈরি ছয়তলা ভবনটিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট স্পেস এরিয়া। হোটেল, কনফারেন্স রুম, বিপণি কেন্দ্র, অফিস স্পেস, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন কেন্দ্রসহ এ ভবন থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকা আয়ের সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গত ২৭ মাসে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে রেলওয়ে। জানা গেছে, সম্প্রতি আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করতে দরপত্র আহ্বান করেছে রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ। হোটেল ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী-বিদেশী কিংবা যৌথ অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইজারা দিতে চায় রেলওয়ে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী রেলওয়েকে এককালীন ৫ কোটি টাকা দিতে হবে দরপত্রে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে। অফেরতযোগ্য এ আর্থিক রাজস্বের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা করবে। এর বিনিময়ে স্টেশনটির নকশাকৃত ফ্লোরগুলোতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে পারবে তারা। প্রতি বছর চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের সমন্বিত ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ‘ইনভিটেশন ফর প্রপোজাল ফর ইন্টিগ্রেটেড ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন অব কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন’ শীর্ষক এ পরিকল্পনায় দেশী-বিদেশী আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা কনসোর্টিয়ামকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হেডকোয়ার্টার থেকে এখন পর্যন্ত শিডিউল বিক্রির পরিমাণ আশানুরূপ নয়। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের দপ্তর এবং পাহাড়তলীতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটিও শিডিউল বিক্রি হয়নি। তবে ঢাকায় রেল ভবনে উপপরিচালক (টিসি) কার্যালয় থেকে তিনটি শিডিউল বিক্রি হয়েছে। বড় এ প্রস্তাবে শিডিউল বিক্রির হার আশানুরূপ না হওয়ায় বড় বিনিয়োগের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে রেলের রাজস্ব আয় নিয়ে সন্দিহান রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের রেলওয়ে স্টেশন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের উদ্যোগের কারণে স্টেশনটি ইজারার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। তাছাড়া উদ্বোধনের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাও এর জন্য দায়ী। আশা করছি, এখন দরপত্র আহ্বান হওয়ায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে জটিলতা কেটে যাবে।’ বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহৎ মাল্টি কমপ্লেক্স স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাছাড়া ২০২৩ সালের শেষ দিকে ট্রেন চলাচল শুরু করলেও এখনো এ পথে ট্রেন চলাচল বাড়াতে পারেনি রেলওয়ে। লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে ট্রেন চলাচল না বাড়ালেও বিদ্যমান ট্রেনগুলোর রুট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও উদাসীন রেলওয়ে। এ কারণে বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও রেলপথে কক্সবাজার যেতে যাত্রীরা ঢাকা থেকে দুটি এবং চট্টগ্রাম থেকে দুটি ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলো সারা দেশের যেকোনো ট্রেনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয় করলেও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে রেলওয়ে বাড়তি রাজস্ব আয় থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে স্টেশন কমপ্লেক্সটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় পরিকল্পনামাফিক যাত্রীসেবাও দিতে পারছে না রেলওয়ে। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রেলের ৭০ হাজার একরের ভূমি ও স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল ও দক্ষতার অভাবে আর্থিকভাবে বড় লোকসানে রয়েছে সংস্থাটি। ২০০৫ সালে ৩৩৭ একরের ফয়’স লেক ৫০ বছরের জন্য বাণিজ্যিক ইজারার ক্ষেত্রেও লাভের পরিবর্তে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে। কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অসংগতিতে এখনো ভুগছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটন নগরীতে বৃহৎ এ মাল্টি কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল রেলওয়ের। কিন্তু এ ধরনের স্থাপনা ব্যবহারে অদক্ষতা, বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও অদক্ষতার কারণেই সংকটে পড়েছে রেলওয়ে। সংস্থাটি চাইলে বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে ইজারায় রেলের হিস্যা নিশ্চিত করতে পারত। তাছাড়া দৈনিক ৩০ জোড়া ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সীমিত ট্রেন চলাচলের কারণে আইকনিক স্টেশনটি ইজারা দেয়ার মাধ্যমে রেলওয়ে কাঙ্ক্ষিত দর পাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ না নেয়ায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও রাজস্ব আয় নিয়েও সন্দিহান রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন কমপ্লেক্সটি রেলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। এ কারণে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে নাকি ইজারা দেয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া বড় এ কমপ্লেক্সের ইজারার শর্ত তৈরি করতেও সময় ব্যয় হয়েছে। এখন দরপত্র ঘোষণার ফলে দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে যোগ্য ও সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কমপ্লেক্সটি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়া হবে। আশা করি, স্টেশনটি কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে। সুত্র: বণিক বার্তা

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×