কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে দুর্ধান্ত প্রতারণার তথ্য ফাঁস হয়েছে। একটি প্রতারক চক্র কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে ৯ লক্ষ টাকা মুল্যের জমি। মুল্য পরিশোধ ছাড়াই ওই চক্রটি এ জমি কবলা নেওয়ার খবর চাউর হয়েছে।
এদিকে ২.৬০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। জমি দখলের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে রেজিস্ট্রি দাতা ও গ্রহিতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমি সিন্ডিকেট নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ না করেই রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জমি দখলের পায়তারা করছে। এ ঘটনায় জমির দাতা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী জমি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনা এলাকার বাসিন্দা মৃত বশরত আলীর পুত্র। তিনি গত বছরের ৩১ জানুয়ারি (২০২৪) পেকুয়া মৌজার ৪.৬০ শতক জমি সাফ কবলা মূলে বিক্রি করেন সদর ইউপির মিয়া পাড়ার আহমদ হোসেনের পুত্র জয়নাল আবেদীন, শেখেরকিল্লাঘোনা এলাকার মৃত রশিদ আহমদের পুত্র নুরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেনের পুত্র মনির উদ্দিন ও টইটং ধনিয়াকাটা আব্দুল্লাহ পাড়ার মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র আজিজুল হক এর কাছে। যার কবলা নম্বর ২৮৬। জমির মূল্য ধরা হয়েছিল ৯ লাখ টাকা।
রেজিস্ট্রি সম্পাদনের দিন নজরুল ইসলাম নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পান। বাকি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে তিনশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় (৩১ এপ্রিল ২০২৪) পার হলেও টাকা পরিশোধ করেনি ক্রেতারা। বরং একাধিক বৈঠকেও তারা টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে এবং সর্বশেষ হুমকি দেয় টাকা চাইলে প্রাণনাশ করা হবে।
উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার
অসহায় নজরুল ইসলাম এ ঘটনায় গত ২৪ জুন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নং-১৪১৭/২৫ ইং। আদালতের নির্দেশে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার উল ইসলাম তদন্ত শেষে গত ২৭ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে জয়নাল আবেদীন, নুরুল ইসলাম, মনির উদ্দিন ও আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৫০৬(২)/৩৪ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাদী নজরুল ইসলাম, যিনি উজানটিয়া ঠান্ডারপাড়া মুহাম্মদীয়া জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম।
তিনি বলেন, ৯ লাখ টাকায় জমি বিক্রি করেছিলাম। আড়াই লাখ টাকা হাতে পাই, বাকি টাকাগুলো তিন মাসের মধ্যে দেওয়ার শর্ত সাপক্ষে লিখিত অঙ্গীকারনামা করেছিল। এখন টাকার কথা অস্বীকার করছে, উল্টো আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি সহজ-সরল মানুষ, বিশ্বাস করে জমি দিয়েছিলাম। এখন প্রতারণার শিকার হয়েছি।
অঙ্গীকারনামার সাক্ষী মো. ফোরকান উদ্দিন জানান, আমার সামনেই চুক্তিনামা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা টাকার বিষয়টি অস্বীকার করছে।
শুধু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণাই নয়, এখন নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও প্রতিপক্ষ মামলা ঠুকে দিয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ তাদের লক্ষ্য মূলত হয়রানি করা ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো। ভুমি সিন্ডিকেটের একজন আজিজুল হক বাদী হয়ে একই আদালতে গত ৯ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নম্বর ৫৩৭/২৫। মামলায় নজরুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।




মন্তব্য করুন