হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

রামুতে বানের পানিতে ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন

সোয়েব সাঈদ::

কক্সবাজারের রামুতে টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পানির স্রোতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ২ জন। পাহাড় ধ্বসে ২০টিরও বেশী বসত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে দশ হাজার পরিবার। বাঁকখালী নদীসহ বিভিন্ন ছরা-খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া চারজনের মধ্যে দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব জুমছড়ি এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন (২২) এবং ঈদগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বৈদ্য পাড়া এলাকার মৃত লইগ্যা রাখাইন এর ছেলে চচিং রাখাইন (৫৫)। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলম (৩৫) এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে মো. জুনাইদ (১০)।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানান, স্থানীয় পূর্ব জোমছড়ি এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে সিএনজি ড্রাইভার আমজাদ হোসেন সকাল এগারটার দিকে জুমছড়ি এলাকার কবরস্থান রোড দিয়ে যাওয়ার সময় পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর স্থানীয়রা বিকাল পাঁচটার দিকে একশ গজ দূর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে রাত আটটার দিকে আমজাদ হোসেনের নামাজে জানাজা সম্পন্ন করে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলমের ছেলে দিনমজুর রবিউল হাছান বাঁকখালী নদীর উজানে কাজ করতে যাওয়ার সময় স্রোতের পানিতে ভেসে যায়। তাঁকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থীরা, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি নোটিশ

ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, মো. জুনাইদ এলাকাবাসীর সাথে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানির স্রোতে উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি ধরছিল। সকাল এগারটার দিকে নদীর পানিতে ঝাঁপ দিয়ে একটা কাঠের গুঁড়ি ধরতে গিয়ে মো. জুনাইদকে ভেসে যায়। তাকে বাঁচাতে স্থানীয় ইব্রাহিম সওদাগরের ছেলে মো. আরিফ উল্লাহ (১৮) নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে স্থানীয়রা আরিফ উল্লাহকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও জুনাইদকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। মো. আরিফ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

ঈদগড়ের মৃত চচিং রাখাইনের মেয়ে লাইচিং রাখাইন জানান, ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বৈদ্যপাড়া এলাকার আদিন্যা খাল নামক নদী পার হয়ে সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় নদীর পানিতে ভেসে যায়। স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানিয়েছেন, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের টিলাপাড়া এলাকার নূর আহমদের পুত্র হতদরিদ্র জাফর আলমের বসত বাড়িটি প্রবল বর্ষনের ফলে পাহাড় ধ্বসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় জাফর আলমের তিন মেয়ে সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহত এক মেয়েখে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম ২ জনের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরবারি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্গতদের বিতরণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও চিড়া,গুড়, স্যালাইনসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

রামুতে বানের পানিতে ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

রামুতে বানের পানিতে ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন
Print Image
সোয়েব সাঈদ:: কক্সবাজারের রামুতে টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পানির স্রোতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ২ জন। পাহাড় ধ্বসে ২০টিরও বেশী বসত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে দশ হাজার পরিবার। বাঁকখালী নদীসহ বিভিন্ন ছরা-খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া চারজনের মধ্যে দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব জুমছড়ি এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন (২২) এবং ঈদগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বৈদ্য পাড়া এলাকার মৃত লইগ্যা রাখাইন এর ছেলে চচিং রাখাইন (৫৫)। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলম (৩৫) এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে মো. জুনাইদ (১০)। গর্জনিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানান, স্থানীয় পূর্ব জোমছড়ি এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে সিএনজি ড্রাইভার আমজাদ হোসেন সকাল এগারটার দিকে জুমছড়ি এলাকার কবরস্থান রোড দিয়ে যাওয়ার সময় পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর স্থানীয়রা বিকাল পাঁচটার দিকে একশ গজ দূর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে রাত আটটার দিকে আমজাদ হোসেনের নামাজে জানাজা সম্পন্ন করে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলমের ছেলে দিনমজুর রবিউল হাছান বাঁকখালী নদীর উজানে কাজ করতে যাওয়ার সময় স্রোতের পানিতে ভেসে যায়। তাঁকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, মো. জুনাইদ এলাকাবাসীর সাথে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানির স্রোতে উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি ধরছিল। সকাল এগারটার দিকে নদীর পানিতে ঝাঁপ দিয়ে একটা কাঠের গুঁড়ি ধরতে গিয়ে মো. জুনাইদকে ভেসে যায়। তাকে বাঁচাতে স্থানীয় ইব্রাহিম সওদাগরের ছেলে মো. আরিফ উল্লাহ (১৮) নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে স্থানীয়রা আরিফ উল্লাহকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও জুনাইদকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। মো. আরিফ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। ঈদগড়ের মৃত চচিং রাখাইনের মেয়ে লাইচিং রাখাইন জানান, ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বৈদ্যপাড়া এলাকার আদিন্যা খাল নামক নদী পার হয়ে সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় নদীর পানিতে ভেসে যায়। স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানিয়েছেন, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের টিলাপাড়া এলাকার নূর আহমদের পুত্র হতদরিদ্র জাফর আলমের বসত বাড়িটি প্রবল বর্ষনের ফলে পাহাড় ধ্বসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় জাফর আলমের তিন মেয়ে সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহত এক মেয়েখে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম ২ জনের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরবারি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্গতদের বিতরণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও চিড়া,গুড়, স্যালাইনসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×