নারায়ণগঞ্জ, ১৩ জুন – সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে নানা আইনি জটিলতায় দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে মোট ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই বিশাল মামলাজটের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব তথ্য জানান। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
গ্রাম পুলিশের বেতন ও অবসরকালীন ভাতা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র প্রধান শিক্ষক (হেডমাস্টার) সংকট চলছে। এই সংকট দূর করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হেডমাস্টারের বড় অভাব রয়েছে। এই সংকট দূর করতে আমরা ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে আটকে রয়েছে। তবে এই আইনি জটিলতা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে মামলা জটিলতার কারণেই সময়মতো যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ৮৩ হাজার ৫০০ মামলার এই পাহাড় ডিঙাতে সরকার আইনি লড়াই জোরদার করছে। দ্রুততম সময়ে এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একটি সুখবর দিয়েছেন। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) অতি শিগগিরই শুরু হবে। সরকার চায় কোনো ধরনের তদবির ছাড়া সম্পূর্ণ যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসুক।
এনএন/ ১৩ জুন ২০২৬




মন্তব্য করুন