হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

সীমান্তে নতুন উত্তাপ: মিয়ানমারের সংঘর্ষে আতঙ্কিত উখিয়া ও ঘুমধুমের মানুষ

শহিদুল ইসলাম ::

শহিদুল ইসলাম ::

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। বৃহস্পতিবার রাতভর মিয়ানমারের ভেতরে চলা তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছে বাংলাদেশের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার পর থেকেই গুলির শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গোলাগুলির তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। গোলাগুলির আওয়াজ থেমে থেমে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত শোনা যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অনেক পরিবার আলো নিভিয়ে ঘরে বসে রাত পার করে।

পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী, থাইংখালী, বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া গ্রামগুলোতে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মানুষও একই আতঙ্কে রাত পার করেছে।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীন নামে এক যুবক বলেছেন মিয়ানমারের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। প্রায় কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাগুলি হতে পারে।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা বাবুল আহমদ বলেন রাত ১২ টার দিকে সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এরপর থেকে স্হানীয় বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারেনি।

আরও পড়ুন

জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল আলম সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন মিয়ানমারের অভ্যন্তরের ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এপারে এখনও পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মতে, রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।এছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি।
এ ব্যাপারে ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু পশ্চিমকুলের বাসিন্দা তহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। এতে ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেনি।
দোকানদার আবদুর রহিম বলেন মিয়ানমারের অভ্যন্তরের বড় ধরনের হামলা হতে পারে। ভয়ে আতংকে ঘর থেকে কেউ বের হয়নি রাতে।

সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সংঘর্ষ পুরোপুরি মিয়ানমারের ভেতরে ঘটছে এবং তা সীমান্ত থেকে বেশ দূরে।৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা গেলেও বাংলাদেশে গুলি আসার সম্ভাবনা নেই।”তিনি আরও জানান, যেসব ছবি ও গুজব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে—তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। আহত রোহিঙ্গার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায়ই এমন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।রাতভর আতঙ্কে থাকা শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা প্রায়ই ঘুমাতে পারে না। দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়। অনেক সময় স্থানীয় বাজারগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এবং সীমান্তে কৃষিকাজও বাধাগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছে বলে শুনেছি। তবে স্হানীয়দের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

সীমান্তে নতুন উত্তাপ: মিয়ানমারের সংঘর্ষে আতঙ্কিত উখিয়া ও ঘুমধুমের মানুষ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

সীমান্তে নতুন উত্তাপ: মিয়ানমারের সংঘর্ষে আতঙ্কিত উখিয়া ও ঘুমধুমের মানুষ

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম :: | প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন
Print Image
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। বৃহস্পতিবার রাতভর মিয়ানমারের ভেতরে চলা তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছে বাংলাদেশের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার পর থেকেই গুলির শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গোলাগুলির তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। গোলাগুলির আওয়াজ থেমে থেমে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত শোনা যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অনেক পরিবার আলো নিভিয়ে ঘরে বসে রাত পার করে। পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী, থাইংখালী, বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া গ্রামগুলোতে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মানুষও একই আতঙ্কে রাত পার করেছে। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীন নামে এক যুবক বলেছেন মিয়ানমারের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। প্রায় কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাগুলি হতে পারে। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা বাবুল আহমদ বলেন রাত ১২ টার দিকে সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এরপর থেকে স্হানীয় বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারেনি। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল আলম সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন মিয়ানমারের অভ্যন্তরের ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এপারে এখনও পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মতে, রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।এছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি। এ ব্যাপারে ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু পশ্চিমকুলের বাসিন্দা তহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। এতে ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেনি। দোকানদার আবদুর রহিম বলেন মিয়ানমারের অভ্যন্তরের বড় ধরনের হামলা হতে পারে। ভয়ে আতংকে ঘর থেকে কেউ বের হয়নি রাতে। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সংঘর্ষ পুরোপুরি মিয়ানমারের ভেতরে ঘটছে এবং তা সীমান্ত থেকে বেশ দূরে।৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা গেলেও বাংলাদেশে গুলি আসার সম্ভাবনা নেই।”তিনি আরও জানান, যেসব ছবি ও গুজব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে—তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। আহত রোহিঙ্গার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায়ই এমন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।রাতভর আতঙ্কে থাকা শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা প্রায়ই ঘুমাতে পারে না। দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়। অনেক সময় স্থানীয় বাজারগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এবং সীমান্তে কৃষিকাজও বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছে বলে শুনেছি। তবে স্হানীয়দের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×