ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর – যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে ড্রোন হামলায় জাতিসংঘের স্থাপনায় কর্মরত ৬ জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) কর্মরত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের সদস্য ছিলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশাপাশি নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ জ্ঞাপন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ ঠেকাতে পাকিস্তান ও কাতারের বড় উদ্যোগ: তেহরান ও ওয়াশিংটনের কাছে ‘মিডেল গ্রাউন্ড’ প্রস্তাব
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) কর্ডোফানের মধ্যাঞ্চলীয় কাদুগলি শহরে অবস্থিত শান্তিরক্ষী সরবরাহ ঘাঁটিতে এই ভয়াবহ হামলাটি ঘটে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নিহত ৬ জন ও আহত ৮ জন শান্তিরক্ষীই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা সবাই জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী আবেইতে কর্মরত ছিলেন।
আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী সরবরাহ ঘাঁটিতে যে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে করা হামলা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধের শামিল। দক্ষিণ কর্ডোফানে শান্তিরক্ষীদের ওপর আজকের হামলা অযৌক্তিক। এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই হামলায় ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের কাছে তার দেশের সেনাদের ‘যেকোনো প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা’ প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কঠিন মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার তাদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াবে।’
তেল সমৃদ্ধ আবেই হলো সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে একটি বিতর্কিত অঞ্চল। ২০১১ সাল থেকে সেখানে জাতিসংঘ মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বৃহত্তম অবদানকারী দেশগুলির মধ্যে একটি। ইউএনআইএসএফএ-এর চার হাজার পুলিশ ও সৈন্য এই অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত।
জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস সুদানে দ্রুত যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে সামরিক বাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।




মন্তব্য করুন