চট্টগ্রাম, ১৫ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ওরসের মেলা থেকে ফেরার সময় নৌকা যাত্রীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় মোহাম্মদ সাব্বির নামে এক যুবক নদীতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
তবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদী থেকে নিখোঁজ ওই তরুণের জ্যাকেট ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে হালদা নদীর হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ সাব্বির রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইশকরম গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে রামদাস মুন্সির হাটে একটি মাজারের ওরসে দুই দল যুবকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
দেশের অধিকাংশ এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কয়েক দিন পর কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
পরবর্তীতে মধ্যরাতে এক পক্ষ নৌকায় করে রাউজানের বাড়িতে ফেরার পথে অপর পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা নদীতে থাকা নৌকাটি টেনে ধরে এবং সেখানে থাকা যুবকদের মারধর শুরু করে। এ সময় তিনজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে দুইজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাব্বির পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও এখন পর্যন্ত ওই যুবকের কোনো খোঁজ পায়নি। এদিকে নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠা নিয়ে এখনো হালদা পাড়ে অবস্থান করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ারুল আজিম জানান, রাউজান থেকে হাটহাজারীর ওই ওরসে সাব্বিরসহ কয়েকজন গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথেই তাদের নৌকায় হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দূরে জেলেপাড়ায় ভাসমান অবস্থায় সাব্বিরের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও জ্যাকেট পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলী জানান, নৌকায় ওঠার পর কিছু যুবক নৌকাটি তীরের দিকে টেনে ধরে এবং লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজেও মারধরের এমন দৃশ্য দেখা গেছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তে এবং নিখোঁজ সাব্বিরকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে।




মন্তব্য করুন