ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর – জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অর্ধশতাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
১৬০ রানেই শেষ স্বপ্ন: ফাইনালে আফগানিস্তান, ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বাংলাদেশের বিদায়
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজন হারা পরিবারের অনেক সদস্য। এছাড়াও সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান এবং রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করবেন মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। পৃথক দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ চলছে।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার তার তদন্তকালে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি ফোনালাপ জব্দ করেছেন। তিনি সাক্ষীতে কয়েকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনাবেন এবং সেই মর্মে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করবেন। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে তার জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে এবং প্রত্যেকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’
এই মামলা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরো দু’টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন