ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি – প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—উভয়ই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভিত্তি গড়ে দেবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
সাক্ষাতে বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ), আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।
পাওলা পাম্পালোনি জানান, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসের ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক উদ্যোগের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। ইইউ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে সংস্কার–আকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, ইইউ তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রশংসা করেছে। পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতি বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে পাওলা পাম্পালোনি বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা উভয় পক্ষের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
এনএন/ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন