ওয়াশিংটন, ২৭ জানুয়ারি – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়টি বিচার বিভাগ (ডিওজে) খতিয়ে দেখছে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার ঘটনায় যখন প্রশাসন সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়ই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ডিওজে ও কংগ্রেস ‘কংগ্রেসউইম্যান’ ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ওমর সোমালিয়া থেকে শূন্য হাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, আর এখন তার সম্পদের পরিমাণ ৪৪ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ডলারেরও বেশি। তিনি লিখেছেন, সময়ই সব দেখাবে।
মিরপুরে টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ: ছিটকে গেলেন মুশফিক, অভিষেক হৃদয়ের
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলহান ওমরের সম্পদ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার পেছনে তার স্বামীর সম্পদেরও ভূমিকা রয়েছে। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত এই কংগ্রেস সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইলহান ওমর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি আড়াল করতে ট্রাম্প তাকে সামনে এনেছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ওমর লেখেন, ‘দুঃখিত ট্রাম্প, আপনার সমর্থন ভেঙে পড়ছে, আর আপনি আতঙ্কিত। আপনি ঠিক সময়েই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছেন নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য। বছরের পর বছর ‘তদন্তে’ কিছুই পাওয়া যায়নি। মিনেসোটা থেকে আপনার লোকজন সরিয়ে নিন।’
এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার আহ্বান দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ওমরের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত এবং তা এখনই শুরু করতে হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প বারবার ইলহান ওমর ও সোমালি সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় মিনেসোটায় কল্যাণ তহবিল আত্মসাতের একটি কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এনেছেন, যেখানে সোমালি অভিবাসীসহ ডজনখানেক মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প মিনেসোটা ও গভর্নর টিম ওয়ালজের প্রসঙ্গ নিয়ে এক বক্তব্যে ওমরের মাথার স্কার্ফ নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ওমর সব সময় হিজাবের ভেতরেই থাকেন।
একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটায় কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরু করে, যা রাজ্যের বড় সোমালি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর কৌশল দেশজুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসের শুরুতে নিজের গাড়ি ঘিরে ফেলা অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তিন সন্তানের মা ও মার্কিন নাগরিক রেনে গুড গুলিতে নিহত হন।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, তিনি গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ভিডিও ফুটেজে সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপরই অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়। হোয়াইট হাউজ প্রেট্টিকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেছে, তার কাছে অস্ত্র ছিল। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুলির সময় প্রেট্টির এক হাতে মোবাইল ফোন ছিল, অন্য হাতটি উঁচু ও খালি ছিল।
তিনি আরও জানান, ঘটনার স্বাধীন তদন্তের মধ্যেই ডিএইচএস ও এফবিআই তদন্ত করছে। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) আলাদা অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে।
রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি- দুজনই মিনিয়াপোলিসে নিহত হয়েছেন, যাদের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইলহান ওমর। শনিবার এক বিবৃতিতে ওমর বলেন, ‘আমাদের বাসিন্দাদের রক্ষা করার বদলে ফেডারেল এজেন্টরা তাদের টার্গেট করে হত্যা করছে।’ তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসনের দাবি তোলেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প জানান, তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অনেক বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, গভর্নর ওয়ালজকে জানিয়েছি, টম হোম্যান তাকে ফোন করবেন এবং আমরা যেকোনো অপরাধীকে খুঁজে বের করতে চাই। ট্রাম্প বলেন, গভর্নর বিষয়টি সম্মানের সঙ্গে বুঝেছেন এবং শিগ্রই আবার কথা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, মিনেসোটার উন্নয়ন নিয়ে তিনি ও গভর্নর ওয়ালজ একই লক্ষ্য ভাগ করে নেন।
এনএন/ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন