চট্টগ্রাম, ৯ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) বিষয়ে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বর্তমান সরকারের সময়ে এনসিটি নিয়ে কোনো চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনা হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ধর্মঘট কর্মসূচি ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিরপুরে টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ: ছিটকে গেলেন মুশফিক, অভিষেক হৃদয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে বদলি করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার মতো যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ কর্মবিরতি পালন করে আসছিল। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে যান এবং দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এর ফলেই রোববার সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ সব এলাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এনএন/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন