হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, গোলাগুলি

শহিদুল ইসলাম::

শহিদুল ইসলাম::

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) এর নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল দল উখিয়ার হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত চোরাকারবারিরা টহল দলের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গল এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।

বিজিবির পাল্টা অবস্থানের মুখে চোরাকারবারিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কয়েকজন নাফ নদী হয়ে পালিয়ে যায় এবং ৪-৫ জন পাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি।

আরও পড়ুন

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’

এ সময় চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থানরত একটি ডাকাত দল চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায়। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরবর্তীতে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একক অভিযানে এটি সর্বোচ্চ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

এর আগে, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের অপর একটি বিশেষ টহল দল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে উখিয়া ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানা-এ হস্তান্তর করা হয়। । সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

উদ্ধারকৃত ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানা-তে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, গোলাগুলি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, গোলাগুলি

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম:: | প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) এর নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল দল উখিয়ার হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত চোরাকারবারিরা টহল দলের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গল এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। বিজিবির পাল্টা অবস্থানের মুখে চোরাকারবারিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কয়েকজন নাফ নদী হয়ে পালিয়ে যায় এবং ৪-৫ জন পাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি। এ সময় চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থানরত একটি ডাকাত দল চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায়। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একক অভিযানে এটি সর্বোচ্চ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এর আগে, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের অপর একটি বিশেষ টহল দল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে উখিয়া ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানা-এ হস্তান্তর করা হয়। । সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। উদ্ধারকৃত ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানা-তে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×