অটোয়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি – কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারত সফরে আসছেন। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাঁর সফরের প্রথম ধাপে তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনের উদ্যোগ নেবেন।
২০২৩ সালে কানাডায় এক শিখ নেতার হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছিল, তা স্বাভাবিক করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
সফরের শুরুতে কার্নি ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে যাবেন এবং পরবর্তীতে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী।
কার্নির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। ভারত ও কানাডার বর্তমান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই অংক ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি জানিয়েছে।
বর্তমানে ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে ৬০০টিরও বেশি কানাডীয় কোম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, কানাডার পেনশন তহবিলগুলো ভারতে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কানাডায় বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভারতের ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।







