ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি – দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের পর থেকেই আর্থিক অঙ্গনে তার পূর্ববর্তী ঋণখেলাপির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে তিনি আইনিভাবে ঋণখেলাপি নন।
মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা এবং হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। জানা গেছে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ একসময় খেলাপি হয়েছিল। গত বছরের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার আওতায় তিনি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণটি পুনঃতফসিল করেন। নিয়ম অনুযায়ী, পুনঃতফসিলের শর্ত মেনে চলায় তাকে এখন আর খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
তবে বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিল এবং একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এদিকে, বুধবার দিনভর বাংলাদেশ ব্যাংকে নাটকীয় পরিস্থিতি বিরাজ করে। সকাল থেকেই গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা গভর্নরের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ আনেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে আহসান এইচ মনসুর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং পদত্যাগ করেননি বলে জানান। তবে সরকার পরিবর্তনের খবর শোনার পর তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ব্যাংক ত্যাগ করেন।
এর আগে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে লাঞ্ছিত করে ব্যাংক থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বের এই পরিবর্তন সম্পন্ন হলো।
এসএএস/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬







