সিডন, ২৪ মার্চ – দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে সেখানে একটি সুরক্ষামূলক বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন যে লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকা তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান।
তিনি জানান সীমান্ত এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে ইসরায়েলি বাহিনী ওই অঞ্চলের অবশিষ্ট সেতুগুলো এবং লিতানি নদী পর্যন্ত নিরাপত্তা অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পরিকল্পনা সফল হলে লেবাননের প্রায় এক দশমাংশ ভূখণ্ড ইসরায়েলের দখলে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই পদক্ষেপকে তাদের দেশের জন্য একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
গোষ্ঠীটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর ওপর থাকা পাঁচটি সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে এবং সীমান্তবর্তী লেবাননের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ইসরায়েলের দাবি তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয় বরং হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থানগুলো ধ্বংস করতেই এসব অভিযান চালাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল এই অঞ্চলের বেশ কিছু অংশ নিজেদের দখলে রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা গাজায় যে ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে দক্ষিণ লেবাননেও একই রকম বাফার জোন তৈরি করতে চাইছে ইসরায়েল। তবে এই পদক্ষেপের ফলে চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
এ এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন