
কুষ্টিয়া, ১১ এপ্রিল – কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পবিত্র কোরআন নিয়ে কটূক্তি এবং ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত তার দরবার শরিফে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ওই আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে।
একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থগিত আরও ৪টি
হামলায় নিহতের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শামীম রেজা ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫২ বছর বয়সী শামীম রেজা নিজেকে কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর অনুসারী হিসেবে দাবি করতেন। তিনি ইসলামের মৌলিক ইবাদত যেমন নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের আস্তানায় সমবেত হওয়ার নির্দেশ দিতেন। দাফনকার্যে ইসলামী নিয়মের বদলে গানবাজনার আয়োজন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করায় দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
স্থানীয়রা জানান, শামীম ঢাকা থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে তিনি এই আস্তানা গড়ে তোলেন।
২০২১ সালের মে মাসেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দৌলতপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই সময় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এনএন/ ১১ এপ্রিল ২০২৬




মন্তব্য করুন