ওয়াশিংটন, ১৬ মে – ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে আঠারো বছর বয়সী এক আর্জেন্টাইন তরুণ হিসেবে গেলসেনকির্চেনের মাঠে নেমেই গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। একই আসরে পর্তুগালের হয়ে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্ব ফুটবল তখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে আগামী দুটি দশক এই দুই মহাতারকা নিজেদের ব্যক্তিগত রাজত্বে পরিণত করবেন।
দুই দশক পর ২০২৬ সালে এসে সেই দুই তরুণ এখন মধ্যবয়সী দুই কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক সমাপ্তির। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের ষষ্ঠ এবং ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ক্রীড়াঙ্গন যাকে নাম দিয়েছে দ্য লাস্ট ডান্স।
ব্যালন ডি’অরের ভোটে পঞ্চম মেসি, প্রথমবার জিতলেন হ্যারি কেইন
২০২২ সালে দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে যখন ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করে তখন মেসির ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেয়েছিল। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা এই তারকা ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কোপা আমেরিকা জিতেছেন। দেশের হয়ে ২০০ ম্যাচের মাইলফলক ছুঁতে যাওয়া মেসি এবার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন।
বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির গোল ১৩টি। আগামী ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসির সামনে গ্রুপ পর্বে থাকছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফিটনেস নিয়ে খেলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই উইঙ্গার বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন।
পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ সালে ইউরো জিতলেও বিশ্বকাপের ট্রফিটি এখনো তার কাছে অধরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ২২৬ ম্যাচ খেলা রোনালদো নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৬ আসরই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। ডিআর কঙ্গো, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে লড়বে পর্তুগাল।
- আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব পার করতে পারে।
- তবে আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে মেসি ও রোনালদোর।
- ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দুই নক্ষত্রের এই শেষ লড়াই দেখার জন্য এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব উন্মুখ হয়ে আছে।




মন্তব্য করুন