চট্টগ্রাম, ১৭ মে – এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই এক দল সহপাঠী ও অন্য স্কুলের পরীক্ষার্থীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার ওপর ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে তাদের। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থীর শরীরে সব মিলিয়ে দিতে হয়েছে ৫১টি সেলাই!
আজ রোববার (১৭ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিএম হাসপাতালের সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
অপকর্ম দমনের বদলে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: ডিআইজির বাসায় অভিযান ঘিরে শফিকুর রহমানের তোপ
আহতরা হলেন— বারইয়ারহাট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান এবং তার বন্ধু মুহাম্মদ মুনায়েম। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জিহানের শরীরে ১৯টি এবং মুনায়েমের শরীরের বিভিন্ন অংশে ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
আহত জিহানের বাবা মোহাম্মদ আলমগীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে জিহান ও তার বন্ধু মুনায়েম বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্র থেকে আজ বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। তারা কেন্দ্রের কিছু দূরে বিএম হাসপাতালের সামনে আসামাত্র, করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী তাদের ওপর আচমকা হামলা চালায়। তারা পরিকল্পিতভাবে ক্ষুর নিয়ে এসেছিল এবং দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। আমি এই ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলে, “আজ আমাদের বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বেরিয়ে সামান্য পথ আসার সঙ্গে সঙ্গেই করেরহাট স্কুলের ছেলেরা আমার বন্ধু মুনায়েমকে মারতে থাকে। আমি তাকে বাঁচাতে গেলে ওরা আমাকেও ক্ষুর দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। গত এক সপ্তাহ ধরেই করেরহাট স্কুলের পরীক্ষার্থী রানা, রামিম, তুহিন, মোস্তাফিজ, হাসানসহ কয়েকজন আমাদের সাথে ঝামেলা করার চেষ্টা করছিল।”
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে আহতদের সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সরিয়ে নেওয়ায় পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দিলে অপরাধী পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার মতো একটি জাতীয় পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই পরীক্ষার্থীদের এমন গ্যাং কালচার ও ক্ষুর হামলার খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রানা ও রামিমসহ অভিযুক্ত কিশোরদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেফতার করতে মিরসরাই ও করেরহাট এলাকায় খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন