ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্তের মধ্যেই দেশ ত্যাগ করেছেন সদ্য বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত এড়াতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে তিনি তড়িঘড়ি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বিদেশ যাওয়ার সময় তাঁর সরকারি জিও বা অনুমতিপত্র ছিল না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ফয়েজ তৈয়্যবকে বিদেশে যেতে সহায়তা করেছেন সদ্য বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে প্রথমে আটকানো হলেও পরে উচ্চমহলের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৈয়্যবের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১৫০ কোটি টাকা সরানো, বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার প্রকল্পের ব্যয় ১৬৫ কোটি থেকে অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে ৩২৬ কোটি টাকা করা এবং লাইসেন্স বাণিজ্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অন্যতম।
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার অবস্থান ৩ নম্বরে: বাতাসে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি
ড. ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে তৈয়্যবকে আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার এবং ২০২৫ সালের মার্চে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। নেদারল্যান্ডসের নাগরিক তৈয়্যব তাঁর মেয়াদে গ্রামীণফোনকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে ড. ইউনূস সরাসরি লাভবান হয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারে বিদেশি লবিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
দুদক যখন বিটিসিএলের ফাইভজি রেডিনেস প্রকল্প ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করে, তখন তৈয়্যব সরাসরি তাতে হস্তক্ষেপ করেন এবং দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করার চাপ দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তৈয়্যব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি এবং স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলে পড়েছেন।
এসএএস/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন