তেহরান, ১৮ মে – মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম যুদ্ধংদেহী আবহ তৈরি করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র (Strait of Hormuz) ওপর নিজেদের একক ও পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিল ইরান। কেবল নিয়ন্ত্রণই নয়, এই কৌশলগত জলপথে নিজেদের নিরাপত্তা ও সামরিক নজরদারি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে তেহরান।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে এই জলপথ দিয়ে যেকোনো দেশের যেকোনো ধরনের নৌযান চলাচলের আগে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং আইআরজিসির কাছ থেকে লিখিত বা পূর্ব অনুমতি (Pre-coordination) নিতে হবে। ইরানের এই একতরফা সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জোরদার হচ্ছে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত ‘রেড বিচ’ (Red Beach) এলাকা থেকে পাওয়া আন্তর্জাতিক সামরিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে সেখানে ভারী মারণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে পুরো জলপথ অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্র কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক ও যুদ্ধজাহাজকে কোনো অবস্থাতেই এই প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কেবল ইরানের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সাধারণ পণ্যবাহী নৌযান আগের মতোই এই পথ ব্যবহার করতে পারবে, তবে তাও কড়া স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে।
লন্ডন ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক শিপিং ট্র্যাকিং সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির ঠিক আগের কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল কিছুটা বেড়েছিল। বিশেষ করে চীনা কোম্পানির প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ অতিক্রম করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার জবাবে ইরান এই ‘তেল অস্ত্র’ ব্যবহার করছে। যদি ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য এই প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, যার সরাসরি ধাক্কা লাগবে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে। ওদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিলে পারস্য উপসাগরে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন