কক্সবাজারের টেকনাফে এক তরুণীকে ইজিবাইক থেকে জোর করে নামিয়ে মারধর, লাঞ্ছিত করা, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং নির্যাতনের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর শিলখালী এলাকার দুবাইপ্রবাসী নুরুল হকের সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ করেন তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা আকতার।
এ সন্দেহের জেরে কক্সবাজার থেকে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ওই তরুণীকে আটক করেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে উত্তর শিলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বিদ্যালয়ের পাশের একটি খালি জায়গায় নেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। সেখান থেকে তাঁকে মোর্শেদা আকতারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিয়ের পাত্র চেয়ে গুগল ফর্মে পোস্ট!: ২৪১ আবেদন ও দেড় হাজার মেসেজে তোলপাড়
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মোর্শেদার বাড়ির উঠানে ওই তরুণীর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর পরনের পোশাক খুলে নেওয়া এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ সময় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তরুণীর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত।
তাঁর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে বুধবার শামলাপুর বাজারে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা তুলে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ মোর্শেদার বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোহাম্মদ আইয়ুব, মোহাম্মদ ইসমাইল, মো. ইউনুচ, কুলসুমা আকতার, মোর্শেদা আকতার, রেহেনা আকতার, ইয়াছমিন আকতার জুলি, নাসিমা আকতার, রহমত উল্লাহ ও মো. আলমকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়,মামলার পর অভিযান চালিয়ে মোর্শেদা আকতার ও তাঁর বোন রেহেনা আকতারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযুক্তরা পলাতক থাকার কারনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইনস্পেক্টর আবু সায়েদ বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন উক্ত মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: টেকনাফে তরুণীকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, দুই বোন গ্রেপ্তার সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের টেকনাফে এক তরুণীকে ইজিবাইক থেকে জোর করে নামিয়ে মারধর, লাঞ্ছিত করা, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং নির্যাতনের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন