কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকে হানা দিয়ে পুলিশ দলের ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মোটর সাইকেল জব্দ করেছে। এসময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বৈঠকও পণ্ড করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে চকরিয়া থানা পুলিশ অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগেরদিন মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়ার একটি মৎস্য প্রজেক্টে এ অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানান পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহাম্মেদ আবতাহি (২০), নাজমুল হক (২১), সাকিবুর রহমান (২১), মোঃ নেজাম উদ্দিন (৩৪), রায়হান উদ্দিন (৩০), ইলিয়াছ উদ্দিন (১৯), জসিম উদ্দিন বাবুল (৪২), রবিউল হোসেন (২৮), রেজাউল করিম টিটু (৪২)।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় এবং কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান এর নেতৃত্বে পুলিশ থানা এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন।
চকরিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, মানসম্মত লেখাপড়া নিশ্চিতের তাগিদ
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এএসপি আবদুল আজিজ ও থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের একটি মৎস্য ঘেরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার ও ১৪ টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের উলুবুনিয়ার পশ্চিমে কামাল চেয়ারম্যানের মাছের প্রজেক্টে একটি গোপন সভা চলছে এবং ৩ নভেম্বর ‘জেল হত্যা দিবস’ পালনের আড়ালে ব্যানার নিয়ে চকরিয়া ও মাতামহুরী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছেন।
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাঁরা সেখানে একত্র হন।
পরে সোর্স মারফতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি আভিযানিক টিম মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র তথা লাঠিসোঠা, রড ও ইটের টুকরা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। এসময় তারা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং পুলিশকে ধাওয়া করে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দ্রুত সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো এলাকা ঘেরাও করেন।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দিকবিদিক ছোটাছুটি করে পালানোর চেষ্টা করলে পেছনে ধাওয়া করে ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং তাদের ব্যবহৃত ১৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
ওসি আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত ৯ জনসহ আওয়ামী লীগের মোট ১০০ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে আরও ১০০ থেকে ১৫০ অজ্ঞাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: চকরিয়ায় আ'লীগের ২৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: ৯ নেতাকর্মী গ্রেফতার, ১৪টি মোটরসাইকেল জব্দ সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকে হানা দিয়ে পুলিশ দলের ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মোটর । মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন