ঢাকা, ১১ মার্চ – সমাজে ঈদ, বিবাহ, পুরস্কার বা বিভিন্ন আনন্দঘন উপলক্ষে নতুন টাকার নোটের বিশেষ চাহিদা দেখা যায়। এই চাহিদার কারণে অনেকেই ব্যাংক বা বাজার থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে থাকেন।
উদাহরণস্বরূপ এক হাজার টাকার নতুন নোট এক হাজার পঞ্চাশ বা এক হাজার একশ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বিষয়টি ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। ইসলামে টাকাকে মূলত বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এটি কোনো পণ্য নয়।
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ ৩ খেলায় নিয়মিত অনুশীলনের নির্দেশ
ইসলামি ফিকহের মতে টাকা বা মুদ্রাকে রিবা বা সুদভুক্ত বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ এক ধরনের মুদ্রার সঙ্গে একই ধরনের মুদ্রা বিনিময় করতে হলে তা সমপরিমাণ এবং তাৎক্ষণিক হওয়া বাধ্যতামূলক। সহিহ মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য সমপরিমাণে ও হাতে হাতে বিনিময় করতে হবে এবং যে বেশি নেবে বা বেশি দেবে সে সুদে লিপ্ত হবে।
এই মূলনীতির আলোকে একই ধরনের কাগজের নোট বিনিময় করার সময় পরিমাণে পার্থক্য রাখা সুদের অন্তর্ভুক্ত। এক হাজার টাকার বিনিময়ে এক হাজার পঞ্চাশ টাকা নেওয়া সুস্পষ্ট রিবা বা সুদ। বর্তমান যুগে কাগজের নোট স্বর্ণ বা রৌপ্যের মতোই মুদ্রা হিসেবে গণ্য হওয়ায় একই নোট বেশি দামে বিক্রি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারাহর ২৭৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন।
সমসাময়িক ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে নতুন নোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকলেও এর জন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে কেউ যদি বিনামূল্যে বা সমান মূল্যে তা সরবরাহ করেন, তবে কোনো বাধা নেই। নতুন নোট সংগ্রহের জন্য শরিয়তসম্মত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত সমপরিমাণে বিনিময় করা অর্থাৎ এক হাজার টাকার পুরনো নোটের বদলে এক হাজার টাকার নতুন নোট নেওয়া। দ্বিতীয়ত সরাসরি ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা।
এ এম/ ১১ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন