ঢাকা, ১৫ মে – দায়িত্ব পালনের সময় ‘রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের’ অভাব এবং ‘সীমিত ক্ষমতা’র কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা সংস্কার করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেড় বছরে সরকার কী করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ফলে নতুন কোনো বড় সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দেওয়া বা ‘মেরামত’ করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের অর্থনীতিকে মেরামত করতে হয়েছে, পরে সংস্কারের ভিত্তি গড়তে হয়েছে।”
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, আগের পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়
সালেহউদ্দিন আহমেদ অকপটে স্বীকার করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না।” ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে এই খাতটি জটিল হয়ে পড়েছিল। আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তির কারণে আগের চেয়ে কম সময়ে অর্থ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশের সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই সুশাসনের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হওয়ায় দুই বছরের প্রকল্প ১০-১২ বছর চলে, আবার পাঁচ বছরের প্রকল্প ২০ বছরেও শেষ হয় না।” এছাড়া নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যর্থতা এবং শিল্প খাতের নিম্ন উৎপাদনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।




মন্তব্য করুন