হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

অবশেষে প্রভাষক হুমায়ুনের মনোনয়নপত্র বাতিল

বিশেষ প্রতিবেদক :

বিশেষ প্রতিবেদক :

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের শূণ্য আসনের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর উপধারা ২ (ঙ) এর বিধান যথাযথ ভাবে প্রতিপালিত না হওয়া রির্টার্নিং অফিসার কর্তৃক দেওয়া অধ্যাপক হুমায়ুনের মনোনয়ন বৈধতার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে আপীল নিষ্পত্তি করেন ইউনিয়ন পরিষদ শুন্য আসন এর উপ-নির্বাচন ২০২৪ এর আপিল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আপীল কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

আরও পড়ুন

উখিয়ায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর উপর ধারা ২ এর বিধান যথাযথ প্রতিপালিত হয়নি মর্মে আপিল করেন।

এর আগে তফসিল অনুযায়ী শুক্রবার (৫ জুলাই) মনোনয়ন যাচাই-বাছাই এর শেষ দিন ছিল। ওই দিন মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই কালে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়নের বৈধতা ঘোষণা দিলে তীব্র আপত্তি তুলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, সরকারি কলেজে চাকরিতে বহাল থেকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী প্রভাষক হুমায়ুন কবির চৌধুরী মনোনয়ন বৈধতার বিষয়টি ইউপি নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের সামিল।

৫ জুলাই মনোনয়ন যাচাই বাছাইকালে উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে হতাশ হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ প্রার্থী।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই শেষে সকলকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে তালিকা প্রকাশ করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন-২০২৪ এর রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তারা হলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহিন আক্তার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির কবির চৌধুরীর বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৪ বারের চেয়ারম্যান শাহ কামাল চৌধুরীর ছেলে সাদমান জামী চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উখিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসাইন মিথুন ও ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক চৌধুরী। এবারের নির্বাচনে দলীয় কোন প্রতীক না থাকায় সবাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা দিলেও হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে অভিযোগ তুলে আপীল করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী।

তার ব্যক্তিগত আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামীম জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে আপীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ও কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন এবং হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন। আপীল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার আইন , ২০০৯ এর ২৬(২)(ঙ) ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত বা বহাল থাকার পর কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারে না। সরকারি চাকরি আইন,২০১৮ এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী পদত্যাগ করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিধান রয়েছে। বাছাইয়ের সময় হুমায়ুন কবির চৌধুরী নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষ তথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয় কর্তৃক উনার পদত্যাগের আবেদন নিষ্পত্তির কোনো প্রজ্ঞাপন দেখাতে পারেনি তার আইনজীবীরা।

ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম আরও বলেছেন, অনুরূপ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তার পদত্যাগপত্র নিষ্পত্তি না করে সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এর ২৬ (ঙ) ধারায় অযোগ্য হওয়ার পরেও তাকে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক হুমায়ুনকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে তালিকা প্রকাশ করা মোটেও আইনসিদ্ধ হয়নি।

প্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি গেজেটভুক্ত সরকারি কলেজের অধ্যাপনা করে হুমায়ুন কবির মন্টুর প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণা নিয়ে আমরা অবাক হয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জোর আপত্তি তোলার পরও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। যার কারণে আমরা আপীল করেছি। এখানে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

এদিকে হুমায়ুন কবির চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে দাবী অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের।

প্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর আইনজীবী কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক জানান, সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষ কে যথাযথ প্রক্রিয়া পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন প্রার্থী হয়েছেন। তাই তার প্রার্থীতা বৈধতা পেতে কোন বাধা ছিল না। কিন্ত আজকে আপীল কর্তৃপক্ষ হুমায়নের মনোনয়ন বাতিল করেছেন। তবে আমরা মনোনয়ন বৈধ করে নির্বাচনে প্রার্থীতা করার সুযোগ চেয়ে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিব।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে আমার বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী’র ব্যক্তিগত আইনজীবী আইনি লড়াই লড়বেন। যথাযথ নিয়ম মেনে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হতে তিনি চাকরি ছেড়েছেন, ন্যায় বিচার নিয়েই ইনশাআল্লাহ শ্রীঘ্রই জনগণের দোয়ায় তিনি আবার চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে নামবেন।

উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন ফরম জমার শেষ তারিখ ছিল ৪ জুলাই। যাচাই-বাছাই ছিল ৫ জুলাই। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৬ থেকে ৮ জুলাই। আপিল নিষ্পত্তি ৯ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ জুলাই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ১১ জুলাই। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ১৫ টি ভোট কেন্দ্রে ১০১ বুথে ২৭ জুলাই সকাল ৮ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজাপালং ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ৪২৫৯৮ জন । তৎমধ্যে ২২১৮৭ জন পুরুষ ও ২০৪১১ জন মহিলা ভোটার।

🔗 আরও পড়ুন:

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

অবশেষে প্রভাষক হুমায়ুনের মনোনয়নপত্র বাতিল

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

অবশেষে প্রভাষক হুমায়ুনের মনোনয়নপত্র বাতিল

প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের শূণ্য আসনের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর উপধারা ২ (ঙ) এর বিধান যথাযথ ভাবে প্রতিপালিত না হওয়া রির্টার্নিং অফিসার কর্তৃক দেওয়া অধ্যাপক হুমায়ুনের মনোনয়ন বৈধতার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে আপীল নিষ্পত্তি করেন ইউনিয়ন পরিষদ শুন্য আসন এর উপ-নির্বাচন ২০২৪ এর আপিল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আপীল কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর উপর ধারা ২ এর বিধান যথাযথ প্রতিপালিত হয়নি মর্মে আপিল করেন। এর আগে তফসিল অনুযায়ী শুক্রবার (৫ জুলাই) মনোনয়ন যাচাই-বাছাই এর শেষ দিন ছিল। ওই দিন মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই কালে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়নের বৈধতা ঘোষণা দিলে তীব্র আপত্তি তুলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি কলেজে চাকরিতে বহাল থেকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী প্রভাষক হুমায়ুন কবির চৌধুরী মনোনয়ন বৈধতার বিষয়টি ইউপি নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের সামিল। ৫ জুলাই মনোনয়ন যাচাই বাছাইকালে উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে হতাশ হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ প্রার্থী। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই শেষে সকলকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে তালিকা প্রকাশ করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন-২০২৪ এর রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। তারা হলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহিন আক্তার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির কবির চৌধুরীর বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৪ বারের চেয়ারম্যান শাহ কামাল চৌধুরীর ছেলে সাদমান জামী চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উখিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসাইন মিথুন ও ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক চৌধুরী। এবারের নির্বাচনে দলীয় কোন প্রতীক না থাকায় সবাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা দিলেও হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে অভিযোগ তুলে আপীল করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী। তার ব্যক্তিগত আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামীম জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে আপীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ও কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন এবং হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন। আপীল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার আইন , ২০০৯ এর ২৬(২)(ঙ) ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত বা বহাল থাকার পর কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারে না। সরকারি চাকরি আইন,২০১৮ এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী পদত্যাগ করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিধান রয়েছে। বাছাইয়ের সময় হুমায়ুন কবির চৌধুরী নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষ তথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয় কর্তৃক উনার পদত্যাগের আবেদন নিষ্পত্তির কোনো প্রজ্ঞাপন দেখাতে পারেনি তার আইনজীবীরা। ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম আরও বলেছেন, অনুরূপ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তার পদত্যাগপত্র নিষ্পত্তি না করে সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এর ২৬ (ঙ) ধারায় অযোগ্য হওয়ার পরেও তাকে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক হুমায়ুনকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে তালিকা প্রকাশ করা মোটেও আইনসিদ্ধ হয়নি। প্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি গেজেটভুক্ত সরকারি কলেজের অধ্যাপনা করে হুমায়ুন কবির মন্টুর প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণা নিয়ে আমরা অবাক হয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জোর আপত্তি তোলার পরও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। যার কারণে আমরা আপীল করেছি। এখানে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এদিকে হুমায়ুন কবির চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে দাবী অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। প্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর আইনজীবী কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক জানান, সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষ কে যথাযথ প্রক্রিয়া পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন প্রার্থী হয়েছেন। তাই তার প্রার্থীতা বৈধতা পেতে কোন বাধা ছিল না। কিন্ত আজকে আপীল কর্তৃপক্ষ হুমায়নের মনোনয়ন বাতিল করেছেন। তবে আমরা মনোনয়ন বৈধ করে নির্বাচনে প্রার্থীতা করার সুযোগ চেয়ে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিব। উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে আমার বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী'র ব্যক্তিগত আইনজীবী আইনি লড়াই লড়বেন। যথাযথ নিয়ম মেনে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হতে তিনি চাকরি ছেড়েছেন, ন্যায় বিচার নিয়েই ইনশাআল্লাহ শ্রীঘ্রই জনগণের দোয়ায় তিনি আবার চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে নামবেন। উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন ফরম জমার শেষ তারিখ ছিল ৪ জুলাই। যাচাই-বাছাই ছিল ৫ জুলাই। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৬ থেকে ৮ জুলাই। আপিল নিষ্পত্তি ৯ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ জুলাই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ১১ জুলাই। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ১৫ টি ভোট কেন্দ্রে ১০১ বুথে ২৭ জুলাই সকাল ৮ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজাপালং ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ৪২৫৯৮ জন । তৎমধ্যে ২২১৮৭ জন পুরুষ ও ২০৪১১ জন মহিলা ভোটার।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×